
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বিয়ের কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে উধাও হয়েছেন জীবন মিয়া নামে এক সেনাসদস্য। এরপর থেকে টানা তিন দিন ধরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন ভুক্তভোগী কলেজপড়ুয়া প্রেমিকা মিষ্টি আক্তার।
তিন দিন ধরে না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রেমিকা। এর মধ্যে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের খশরু মিয়ার মেয়ে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিষ্টি আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তারাটিয়া পোড়াভিটা জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে জীবন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জীবন মিয়া সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত। ৪ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের মাঝে প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারকে নিয়ে বিভিন্ন পার্ক ও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রেমিক ও সেনাসদস্য জীবন মিয়া।
এ ছাড়াও অসংখ্যবার ভিডিও কল ও ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথন হয় তাদের মধ্যে। জীবন মিয়া প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারের কাছে বিভিন্ন অনৈতিক দাবি জানালে তিনি বিয়ের পর এসব দাবি পূরণের কথা বলেন বলে তাদের কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশর্ট ফাঁস হয়েছে।
সম্প্রতি ২ মাসের মাসের ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসেন জীবন মিয়া। প্রেমিকা মিষ্টি আক্তার তার প্রেমিক জীবনকে বিয়ের কথা বললে তিনি বিয়ে করবেন বলে ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় একটি বাজারে অপেক্ষা করতে বলেন। তার কথামতো মিষ্টি আক্তার দেখা করতে গেলে জীবন মিয়া সেখান থেকে প্রেমিকা মিষ্টিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে জীবন মিয়া তার মিষ্টিকে নিজ বাড়িতে রেখেই পালিয়ে যান। এরপর থেকে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতেই অবস্থান করছেন মিষ্টি।
মিষ্টির বাবা খশরু মিয়া জানান, চার বছর ধরে আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ওই সেনাসদস্যের। আমার মেয়েকে একাধিকবার আমি অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাইলেও আমার মেয়ে জীবনকে ছাড়া বিয়ে করতে চায়নি। জীবন মিয়া আমার মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই। তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় কথা বলতে রাজি হননি জীবন মিয়ার পরিবারের কেউ।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



