
খুলনার পাইকগাছায় ইজিবাইক চালক ও স্ট্যান্ডের স্টাফকে মারধরের অভিযোগে পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল সরদারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে নামা ইজিবাইক চালকরা দলীয় পদক্ষেপের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে সোলাদানা-পাইকগাছা রুটে ইজিবাইক চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে সোলাদানা থেকে যাত্রী নিয়ে পাইকগাছা কোর্ট মোড় এলাকার ইজিবাইক স্ট্যান্ডে আসেন চালক প্রভাস। স্ট্যান্ডের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে স্ট্যান্ডের স্টাফ মো. রুবেল তাকে যাত্রী নামিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এ নিয়ে চালক ও স্টাফের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এক যাত্রী তার ছেলে মো. রুবেল সরদারকে সেখানে ডেকে আনেন। পরে রুবেল সরদার দলবল নিয়ে স্ট্যান্ডে এসে চালক প্রভাস, স্ট্যান্ডের স্টাফসহ কয়েকজনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোলাদানা-পাইকগাছা রুটের ইজিবাইক চালকরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং ইজিবাইক চলাচল বন্ধ রাখেন। এতে ওই রুটের সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় স্থানীয় বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আসলাম পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মো. রুবেল সরদারকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কারাদেশের চিঠিতে বলা হয়েছে, রুবেল সরদারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তা আমলে নেননি। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মো. আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় ইজিবাইক চালকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে রুটে ইজিবাইক চলাচল শুরু করেন।
চালকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর সোলাদানা-পাইকগাছা রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিরও অবসান ঘটে।
আরটিভি/এমএ


