ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৪০ বছরের সেবার শেষে জাহানারা বেগমকে ফুলেল ভালোবাসায় বিদায় 

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ছবি: আরটিভি

চার দশক ধরে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। কর্মস্থলের সহকর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূলের অসংখ্য মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তার আত্মিক সম্পর্ক। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৯ নম্বর কড়ইয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ সহকারী জাহানারা বেগম।

কর্মজীবনের শেষ দিনটি তাই ছিল অন্যরকম। আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পাশাপাশি সহকর্মীদের ভালোবাসায় ফুলে ফুলে সাজানো হয় একটি গাড়ি। সেই গাড়িতে করেই কর্মস্থল থেকে তাকে বিদায় জানানো হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে বিদায় দিতে গিয়ে অনেকের চোখেমুখে ছিল আবেগ ও স্মৃতির ছাপ।

বুধবার দুপুরে ৯ নম্বর কড়ইয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাহানারা বেগমকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল।

ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমীর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাছিম আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কচুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম সওদাগর, নলুয়া বাজার ব্যবসায়ী ওয়াসিম, কচুয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সমীরন চন্দ্র সরকার।

এ সময় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসাইন আহমেদ, শাহাদাত, নাছিমা, ইউসুফ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে জাহানারা বেগম ৩/গ ইউনিট, সাহেদাপুর, দৌলতপুর, নলুয়া ও কহলথুরী এলাকায় পরিবার কল্যাণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা তার কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার কল্যাণ সহকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জাহানারা বেগম সহকর্মী ও সেবাগ্রহীতাদের কাছে যে আস্থা তৈরি করেছেন, তা সহজে ভোলার নয়।

বিদায় সংবর্ধনার আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মোস্তফা কামালসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সৌজন্যে আয়োজন করেন SACMO নাছিম আহমেদ, FPI সমীর রায় এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী নাছিমা, ফাতেমা জুরিয়া, আনজুমান আরা ও খাদিজা পাবিলা।

চার দশকের কর্মজীবন শেষে বিদায়ের মুহূর্তে ফুলেল ভালোবাসা, সম্মাননা আর সহকর্মীদের আবেগঘন শুভেচ্ছায় সিক্ত হন জাহানারা বেগম। কর্মস্থল থেকে ফুলে সাজানো গাড়িতে তার বিদায়ের দৃশ্যটি উপস্থিত সবার মাঝে তৈরি করে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্ত।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা কখনো বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না মন্তব্য করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তার অপরাধকে চিরতরে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা কখনো বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
মুসল্লিদের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম
জামালপুরের মেলান্দহে সোনার হার দেওয়ার কথা বলে এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে মুসল্লিদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। মসজিদের ইমাম হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই ঘটনায় ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের (৩০) বাদী হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ঢাকার ৩১২ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির ফরিদাবাদ এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগীরা জানান সূত্রে জানা গেছে, মুফতি মিজানুর রহমান তিন মাস আগে ৪০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানির শর্তে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মসজিদের নির্দিষ্ট আবাসনে সপরিবারে অবস্থান করছিলেন। হংকং থেকে তার এক আত্মীয়র পাঠানো সোনা এয়ারপোর্ট থেকে ছাড়িয়ে আনতে টাকার প্রয়োজনের কথা বলে গত মঙ্গলবার তিনি ১৪ থেকে ১৫ জন বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। পরে সেদিন রাতেই সপরিবারে তিনি নিরুদ্দেশ হন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাসহ নানা মাধ্যমে তার খোঁজ না পেয়ে থানায় অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের পক্ষে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মেলান্দহ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম হক বলেন, মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার অভিযোগে করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
মুসল্লিদের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাচ্ছেন মফিজুর রহমান।
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া নারী পরিচয়ে প্রথমে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এরপর তা ধীরে ধীরে গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনে ‘বিয়ে’ করে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখতে থাকেন ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তি ও ‘সুমাইয়া আক্তার’। এরই মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩ লাখেরও বেশি টাকা।  বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফাঁস হয় প্রতারণার পুরো রহস্য। ‘সুমাইয়া’ আসলে কোনো নারী নন, তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত আলী (২০) নামের এক তরুণ। ভুক্তভোগী ৪৮ বছর বয়সি প্রবাসী ঢাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে এক নারী পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামের ওই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে শান্ত আলী ওই প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের একটি ভুয়া সম্পর্ক তৈরি করেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে থাকে শান্তর প্রতারণা। সম্পর্কের সুযোগে বিভিন্ন অজুহাতে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখেরও বেশি টাকা নেন শান্ত। প্রতারণার বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে শান্ত তার বাবাকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে কথা বলাতেন বলে জানা গেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে গন্ডবিল গ্রামে শান্ত আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্তর মোবাইলে হঠাৎ ফোন করেন ওই ইতালি প্রবাসী। তখন পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এতদিন যার সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন, সেই ‘সুমাইয়া আক্তার’ আসলে একজন পুরুষ। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, গ্রেপ্তার শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের পর ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি জানা যায়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আরটিভি/টিআর
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়: জার্মান পর্যটক
বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন কিরিল। তখন নিজের জিনিসপত্র বিশ্বাস করে একজনের কাছে রেখে যান তিনি।
বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়: জার্মান পর্যটক
আরও পড়ুন
রাতে নিখোঁজ, সকালে সড়কের পাশে মিলল যুবকের মরদেহ
পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ
চাঁদপুরে জাল টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
মা ইলিশ ধরলে মিলবে কঠিন শাস্তি