
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দৈহারী গ্রামের টুটুল, ইমরান ও আলমগীর নামে তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবারের সদস্যরা।
মারধরের শিকার ওই কিশোর (১৪) উপজেলার চিলতলা গ্রামের মৃধা বাড়ির ছেলে এবং স্থানীয় চিলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ওই কিশোর তার বাবার পকেট থেকে না বলে টাকা নিয়ে একটি মোবাইল কেনে। পরে বাবার ভয়ে রাতে বাড়ি না গিয়ে বাড়ির সামনের একটি মসজিদে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে পাশের একটি ফার্মের মালিক টুটুল গিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। পরে তার ফার্ম থেকে মুরগি চুরি করার অপবাদ দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরের দাবি, মুরগি চুরির কথা স্বীকার করাতে টুটুল তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। তার সঙ্গে ইমরান ও আলমগীর নামে স্থানীয় আরও দুই ব্যক্তি ছিলেন। মারধরের একপর্যায়ে কিশোর ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করলেও মুরগি চুরি করেনি বলে জানায়। স্বীকারোক্তির পর কিশোরকে স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মৃধার কাছে পাঠানো হয়। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার ছেলে তার বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে মোবাইল কিনেছিল। পরে বাবার ভয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। রাতে ছেলেকে মারধর করা থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগী কিশোরের দাদা বলেন, আমার নাতিকে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে অমানবিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত টুটুল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আমার ফার্ম থেকে মুরগি এবং গাছের সুপারি চুরি হচ্ছিল। ঘটনার রাতে বাড়ির সামনের মসজিদে ছেলেটাকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন সে ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করে। আমি ছেলেটাকে ২-৪ পিটুনি দিয়েছি। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাতে তুলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য লিটন মৃধা বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি গিয়ে ছেলেটিকে দেখতে পাই। তবে আমি তাকে মারধর করতে দেখিনি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




