
রাঙামাটির লংগদুতে জাল-জালিয়াতি, জমি দখল ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে শাহ আলম মিস্ত্রি নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লংগদু উপজেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেডম্যান ও শিক্ষক মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু, ইবনেসিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লংগদুর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম, ভুক্তভোগী রুহুল আমিন এবং উপজেলা মহিলা দলের সম্পাদিকা কুলসুমা বেগমসহ অন্যান্য ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, লংগদু উপজেলার মুসলিমব্লক এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল হকের ছেলে শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অন্যের জমি নিজের দাবি করে আসছেন। জমি দখলে বাধা দিলে তিনি প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে স্থানীয়দের হয়রানি করছেন।
ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম বলেন, শাহ আলম শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিই নয়, তাদের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জায়গারও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলমের মা ও ছেলে মামুন উপস্থিত হয়ে জালিয়াতির সত্যতা নিশ্চিত করেন বলে দাবি করেন আয়োজকেরা। তারা জানান, পৈতৃক সম্পত্তিতে ১০ ভাই-বোনের অধিকার থাকলেও শাহ আলম জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো সম্পত্তি একাই আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদন্ত শেষে ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় দিলেও তাঁর হয়রানি ও হুমকি থামেনি।
ভুক্তভোগী হেডম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু বলেন, তিনি নিজে হেডম্যান হওয়া সত্ত্বেও তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় আমবাগানের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে শাহ আলম সেটি নিজের বলে দাবি করছেন। কীভাবে এই জালিয়াতি চক্র এসব কাগজ তৈরি করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও তিনি দাবি করেন।
অপর ভুক্তভোগী রুহুল আমিন জানান, শাহ আলম ও জাকির মোল্লা নামের অপর এক ব্যক্তি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এলাকায় নিয়মিত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি জালিয়াতি ও দখলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুয়া কাগজপত্র বাতিলসহ ভূমি জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা শাহ আলমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
আরটিভি/এমএইচজে




