ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত, হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছে শিশু গৃহকর্মী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত। মাথায় একাধিক সেলাই। পিঠ ও দুই পায়েও আঘাতের চিহ্ন। কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। দুর্বল শরীর নিয়ে ঠিকমতো উঠে বসার শক্তিটুকুও নেই ১১ বছরের এক শিশুর।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে সে। ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বিরুদ্ধে। বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

শিশুটির অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে তাকে। সামান্য ভুল হলেই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এভাবে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। মা মারা গেছেন। অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান বাবা। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে সেই ঠিকানাও তিনি জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন, মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের ফাকে পড়াশোনার সুযোগও পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তার বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটি জানায়, বাসার গৃহকর্তা রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটনের বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল। গৃহকর্ত্রী ও তার মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে সে। মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় টয়লেটে আটকে রাখার অভিযোগও করেছে শিশুটি।

শিশুটির বাবা বলেন, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছে এ বিষয়েও তিনি কিছু জানতেন না। কয়েক দিন আগে মেয়ের মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে যান শিশুটির বাবা। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান অনেকে।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তার স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিবন্ধকতাও থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধী ফয়েজকে
কাঁধে ব্যাগ, হাতে বই। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের পথে রওনা হয় ফয়েজ হোসেন (১৬)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথকে কঠিন করেছে, কিন্তু থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নকে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও মনোবল নিয়ে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে।
প্রতিবন্ধকতাও থামাতে পারেনি প্রতিবন্ধী ফয়েজকে
মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
নাটোরে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর খাদিজা খাতুন (১৬) নামের এক আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াপদা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।  রাতেই মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মাদরাসার ভেতর কীভাবে ছাত্রী মারা গেল তাৎক্ষণিক তার উত্তর পাওয়া যায়নি।  এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শ্যামপুর গ্রাম থেকে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষিকা মদিনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নিহত ওই ছাত্রী সিংড়া উপজেলার শালিখা গ্রামের মৃত খলিল উদ্দিনের মেয়ে। মাদরাসা সুপার সুলাইমান সরদারও একই গ্রামের বাসিন্দা। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল মঙ্গলবার দুপুরে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত ছাত্রী খাদিজা খাতুন ওই হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।  মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আকস্মিকভাবে ওই মাদরাসা থেকে খাদিজাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও খালু।  সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি জানাজানি হলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আসে গুরুদাসপুর থানা ও নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল ওই মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন তিনি। নিহত ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাদরাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন খাদিজা এমন তথ্য প্রচার করেন তার মা। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ারও দাবি করা হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্ত করতেও বাধা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা তৈরি করেন নিহত খাদিজার মা ও স্বজনেরা। নিহত মাদরাসা ছাত্রী খাদিজার মা মেয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকায় মাদরাসা সুপার ও তার স্ত্রীর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ওই হাফিজিয়া মাদরাসায় বেশ কিছু ছাত্রী আবাসিকে থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করছেন। মাদরাসার ভেতরেই সেখানকার এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। তবে হত্যা নাকি দুর্ঘটনা এ ব্যাপারে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মাদরাসা ছাত্রী খাদিজা নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি। আরটিভি/এসএস
মাদরাসায় আবাসিক ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানাধীন নিউ মার্কেট বি ব্লকের তৃতীয় তলায় একটি কাপড়ের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে আগুন
দিনে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে
দিনাজপুরে বাড়ছে কলার চাষ। জেলার ১৩ উপজেলায় কমবেশি কলা উৎপাদন হলেও বীরগঞ্জ ও কাহারোলে মেহের সাগর কলার আবাদ বেশি হচ্ছে। অল্প পুঁজি ও ভালো লাভের কারণে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট। এ হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়।
দিনে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয় যে হাটে
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ ভিন্ন হলেও ৯৩টি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ব্যবহার করা হয়েছে একই ব্যক্তির ছবি। জাল এনআইডি তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনায় রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
৯৩ ‘বাবার সন্তান’ নেত্রকোনার রবিউল
আরও পড়ুন
বাথরুমে বন্দি রাখা হতো শিশু তানিয়াকে, নির্যাতনে শরীরে পচন
মেঘ বিস্ফোরণে খাগড়াছড়িতে আকস্মিক বন্যা, বাড়ল দুই নদীর পানি
২২ হাজার টাকা দিয়ে ২৪টি গুইসাপ কিনেছিলেন, অতঃপর...
পাঁচ বস্তা গুইসাপ নিয়ে খাগড়াছড়িতে নারী, ঘটনা কী