
দেশের সমুদ্র ও নদীগুলোতে আবারও শুরু হচ্ছে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। মা ইলিশের বাঁধাহীন প্রজনন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে নোয়াখালীর হাতিয়াতেও। এখানে ছোট-বড় প্রায় ২০টি ঘাটে ১০ হাজার জেলের নৌকা রয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ জেলে পেশার সঙ্গে জড়িত। নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে হাতিয়ার চারপাশে মেঘনা নদীতে জেলেদের মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
বুধবার সকালে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে স্পিডবোটে নদীপথে যাওয়ার সময় কয়েকটি জেলে নৌকার মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে একজন সুখচর ইউনিয়নের বাসিন্দা নবীর উদ্দিন (৪০)।
নবীর জানান, তার নৌকায় ৮ জন লোক কাজ করেন। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে নদীতে মাছ শিকার করে তারা লাভের মুখ দেখেননি। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ভালো মাছ ধরা পড়ছিল। ঠিক এই সময়েই সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যার ফলে বৃহস্পতিবার থেকে তাদের বেকার থাকতে হবে। আগের দেনাও এখনও পরিশোধ করা যায়নি, ফলে এ বছর তাদের পুরোপুরি পেটে-ভাতে থাকতে হচ্ছে।
নবীর মাঝির পাশেই নদীতে জাল ফেলে অপেক্ষা করতে দেখা যায় আব্দুল মাঝিকে।
আলাপকালে আব্দুল মাঝি জানান, নদীতে মাছ না থাকায় তিনি মৌসুমের শুরু থেকে নদীতে নামেননি। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি নদীতে নেমেছেন। তার নৌকার ১০ জন মাঝি-মাল্লার মধ্যে ৫ জন বেতনভুক্ত। তাদের বেতন দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আয় এখনও হয়নি। এর মধ্যেই সরকার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তারা আইন মেনে তীরে অবস্থান করবেন। তবে বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের পথে থাকায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না এই জেলে।
নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন সকাল থেকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় নোয়াখালী দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ত চেয়ারম্যান ঘাটের ব্যবসায়ীদেরও। সাদিয়া ফিস এজেন্সির মালিক মো. ছালা উদ্দিনকে কর্মচারীদের নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে দেখা যায়।
তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা মৌসুমের শেষ সময়ে দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞার পর ব্যবসা চালু না করার সম্ভাবনাই বেশি। তাই তিনি এই বছরের হিসাব পুরোপুরি শেষ করে নিচ্ছেন।
ছালা উদ্দিন আরও জানান, তার আড়তে বিভিন্ন জেলের নৌকা মাছ বিক্রি করে এবং তাদের সবাই নিজ নিজ জেলায় চলে যাবেন। এ কারণে তিনি সবার হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আগামীকাল থেকে আড়ত বন্ধ থাকবে এবং ২২ দিনের জন্য সব কর্মচারীকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে।
হাতিয়া সূর্যমুখী মাছ ঘাটের মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি জবিরুল হক জানান, হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় দুই লাখ মানুষ মাছ ধরা ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে ২৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত। সরকার প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বিতরণ করলেও তা সংখ্যা অনুপাতে খুবই কম।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান জানান, এ বছর নিষেধাজ্ঞার সময় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ে জেলেরা নদীতে নামতে পারবেন না এবং সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। অসাধু জেলেদের আইনের আওতায় আনতে মোবাইল টিমসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করবে। প্রতিদিন দুটি টিম হাতিয়ার চারপাশে মেঘনা নদীতে টহল ও পাহারায় নিয়োজিত থাকবে।
আরটিভি/এসএস


