
পাহাড়, ঝরনা, গুহা আর সবুজের হাতছানিতে প্রতিবছরই বাড়ছে খাগড়াছড়িমুখী পর্যটকের আগ্রহ। আলুটিলা, রিছাং ঝর্ণা, হর্টিকালচার পার্ক, দেবতাপুকুর, মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কিছু বিনোদন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে আকর্ষণ। তবে পর্যটকদের চাহিদার তুলনায় বিনোদন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা এখনও সীমিত বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। রহস্যময় গুহা, পাহাড়ের ওপর থেকে বিস্তৃত সবুজের দৃশ্য আর নান্দনিক স্থাপনা- সব মিলিয়ে এটি জেলার অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ। এর সঙ্গে রয়েছে রিছাং ঝর্ণা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হর্টিকালচার পার্ক, দেবতাপুকুরসহ আরও বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। সম্প্রতি হর্টিকালচার পার্কে যুক্ত হয়েছে জিপলাইন ও জায়েন্ট সুইং। নতুন এই বিনোদন সুবিধা বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে দর্শনার্থীদের মধ্যে। তাছাড়া, দেশের ভাইরাল পর্যটন কেন্দ্র ‘সাজেক’ এর প্রবেশমুখ হওয়ায় এই পাহাড়ি জেলায় পর্যটকদের আসতেই হয়।
তবে পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে গিয়ে সব চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের। বিশেষ করে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত রাইড, মানসম্মত থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা, বসার জায়গা ও আধুনিক বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর দাবি পর্যটকদের।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু নতুন পর্যটনকেন্দ্র তৈরি নয়; বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আধুনিক বিনোদন ও যোগাযোগ সুবিধা যুক্ত করাও জরুরি। আলুটিলা থেকে হর্টিকালচার পার্ক বা আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে সংযুক্ত করে ক্যাবল কার চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে নতুন আকর্ষণ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন, সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের দাবি- উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যটনকেন্দ্রে আধুনিক অবকাঠামো, মানসম্মত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা এবং নৈশকালীন বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, পর্যটনকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতার প্রভাব থেকে যতটা সম্ভব মুক্ত রেখে নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
আরটিভি/এসএস




