ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

যশোরে ‘বরিশালের ইলিশ’ বলে ভারতীয় ইলিশ বিক্রি করে ধরা, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
ছবি: আরটিভি

যশোর বড় বাজারের ভারতীয় ইলিশ মাছকে দেশীয় বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার অভিযোগে এক আড়তদারকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়বাজারের মাছ বাজারে অভিযান চালিয়ে কর্ণফুলী ফিস নামে ওই আড়তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ভারতীয় ইলিশের নির্ধারিত মূল্য ও ক্রয় বিক্রয়ের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আড়তদার। এ সময় মাছ বাজারের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকান মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত মূল্যে ভারতীয় ইলিশ বিক্রি এবং আমদানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিযানকালে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৯টি আমদানিকারকের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। আর এই আমদানিকৃত ইলিশই দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে। সাধারণ ক্রেতারা চড়া দামে তা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নওগাঁয় প্রথম ধাপে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ১৭৮৫ জন
বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নওগাঁয় প্রথম ধাপে আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের ১ হাজার ৭৮৫ জন কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড।
নওগাঁয় প্রথম ধাপে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ১৭৮৫ জন
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে শেরপুরে পাটের উৎপাদন
চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও অধিক ফলনে জেলায় সোনালি আঁশে সুদিন ফিরেছে। বিগত বছরের থেকে এ বছর বেশি দাম পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে শেরপুরে পাটের উৎপাদন
তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’
রাস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি টং ঘর। তার একপাশে বাঁধা গরু-ছাগল আর অন্যপাশে রাখা একটি চৌকি। পরিবারের সবার দিনরাত কাটছে ওই একটিমাত্র চৌকিতেই।  পাশে খোলা আকাশের নিচে মাটির চুলায় চলছে রান্নার আয়োজন, আর ঘরবাড়ির চারপাশজুড়ে থইথই করছে পানি। এভাবে প্রায় তিন মাস ধরে মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মানুষ। সরেজমিনে ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার বাধ্য হয়ে রাস্তা এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে তারা সেখানেই দিন কাটাচ্ছেন। পানির কারণে অনেক পরিবারের রান্নাবান্না ও খাবারের ব্যবস্থাও অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকাই এখন এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই তিন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই দুর্ভোগ নিয়ে ডুমুরতলা গ্রামের শিব পদ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা হচ্ছি জলজ প্রাণী, সাপ-ব্যাঙের সঙ্গে আমাদের বসবাস। সরকার ও আমলারা মিলে আমাদের জলজ প্রাণী বানিয়ে রাখছে। আমরা এ জলজ প্রাণীর মতো হয়ে বাঁচতে চাই না। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এমনকি সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজীত বাওয়ালীও দীর্ঘ আন্দোলনের পর মারা গেছেন, কিন্তু ভবদহের স্থায়ী সমাধান দেখে যেতে পারেননি। দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে কৃষক ও শ্রমিকদের নিয়ে আবারও রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তান আমলে ভবদহের ভবানীপুর এলাকায় শ্রী নদীর ওপর ২১ ভেন্ট, ৯ ভেন্ট ও ৬ ভেন্টের স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে সেই নিষ্কাশন ব্যবস্থাই আজ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে, তবুও ভুক্তভোগীদের দাবি—তারা কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, প্রকল্পের ৭৩ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যেখানে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানেই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। নদী খননের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ভবদহের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ৯ লাখ টাকার পৃথক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে না দেওয়ায় ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও কেন পানি কমছে না —এই প্রশ্ন এখন ভবদহবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমডাঙ্গা খাল সংস্কারসহ পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শুরু না হলে এই অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী মুক্তি কবে মিলবে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আরটিভি/এসএস
তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’
ডেঙ্গুতে কেড়ে নিল শিশু মুনিরার প্রাণ
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী সাড়ে পাঁচ বছরের সিরাজুল মুনিরা। 
ডেঙ্গুতে কেড়ে নিল শিশু মুনিরার প্রাণ
বারবার ধসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা, এবার রোগীসহ আহত ৫
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে রোগীর ড্রেসিং ও চিকিৎসা চলার সময় হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা প্লাস্টিকের সিলিং ভেদ করে নিচে মেঝেতে আছড়ে পড়ে।  এ সময় সুজাপুর প্রফেসরপাড়ার ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবকের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হচ্ছিল এবং পাশের বেডে শিবনগর ইউনিয়নের রহিমা বেগম (৪০) পা ভাঙা অবস্থায় শুয়ে ছিলেন। আকস্মিক এই ঘটনায় বিকট শব্দ হলে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। জরুরি বিভাগে কর্মরত ব্রাদার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সে সময় ঘরে অনেক রোগী ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন।’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীমা আক্তার সুইটি জানান, জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত ভিড় থাকায় পলেস্তারা পড়ে অনিক (২৪), মিরপুরের আব্বাস আলী (২৬) ও পাকাপানের নরেন চন্দ্রসহ (৩৮) পাঁচজন আহত হন। জুনিয়র মেকানিক আবুজার গিফারী বলেন, ‘ভাগ্যিস ছাদের নিচে প্লাস্টিকের সিলিং দেওয়া ছিল, তা না হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা তিনবার ধসে পড়েছিল। প্রায় তিন বছর পরপর এটি সংস্কার করা হলেও এবারসহ মোট চারবার ধসের ঘটনা ঘটল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেবা নিতে আসা রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই বিপজ্জনক পুরোনো ভবনটিকে দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর পরই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এ জেড এম মোস্তাহিদুল ইসলামসহ দুই কর্মকর্তা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্বীকার করেন যে, ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাজেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত পাশের কক্ষে জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে।’ আরটিভি/এসএস
বারবার ধসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা, এবার রোগীসহ আহত ৫
আরও পড়ুন
তিন মাসেও কমেনি পানি, জীবন যেখানে ‘জলজ প্রাণীর মতো’
রাতজাগা যবিপ্রবির গল্প
যবিপ্রবিতে অণুজীব দিবসের গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন শনিবার
বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে মিলল ‘রাজা’ ইলিশ, বিক্রি ৭২০০ টাকায়