
খুলনার দাকোপে ‘খ’ শ্রেণির চালনা পৌরসভায় কোটি টাকার যানবাহন ও যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে অকেজো হয়ে রয়েছে। পৌরবাসীকে পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে বিভিন্ন মেয়াদে এগুলো কেনা হলেও নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় বর্জ্য অপসারণের কাজ পুরোপুরি থমকে গেছে। ফলে জরাজীর্ণ গ্যারেজে পড়ে থেকে মূল্যবান গাড়িগুলো দিন দিন নষ্ট হয়ে কঙ্কালসারে পরিণত হচ্ছে।
সরেজমিনেদেখা যায়, গ্যারেজে ৫টি ডাম্প ট্রাক, ১টি রোলার এবং ১টি পেলোডার অলস পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় গাড়িগুলোতে মরিচা ধরেছে, চাকা নষ্ট হয়ে মাটিতে দেবে গেছে। জরাজীর্ণ টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে ভেতরের যন্ত্রাংশ। এমনকি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আসা রোলারের একটি অংশ সম্প্রতি কেটে চুরি করে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এসব যানবাহন চালনা পৌরসভায় যুক্ত হয়। গাড়িগুলো দিয়ে প্রায় চার বছর টানা বর্জ্য ফেলা হলেও বর্তমানে কয়েকটি ট্রাকের ইঞ্জিন বিকল এবং কয়েকটির চাকা ও ব্যাটারি নষ্ট। এমনকি মাত্র ছয় মাস আগে আসা একটি সম্পূর্ণ নতুন ট্রাকও ব্যবহার না করায় অলস বসে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অভাবে একদিকে যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বহুমূল্যের সরকারি যান অকেজো করে অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। দ্রুত গাড়িগুলো মেরামত ও ময়লা ফেলার জায়গা চূড়ান্ত করার দাবি জানান তারা।
চালনা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেছেন, পৌরবাসীকে উন্নত সেবা দিতে এবং বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যেই গাড়িগুলো আনা হয়েছিল। কিন্তু পৌরসভার নিজস্ব কোনো ময়লা ফেলার জমি বা নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় গাড়িগুলোর নিয়মিত ব্যবহার বন্ধ রাখতে হয়েছে। সে কারণেই দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় এগুলো গ্যারেজে পড়ে আছে।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য জমি অধিগ্রহণ বা স্থান নির্ধারণের চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে গ্যারেজের চাল মেরামত এবং নষ্ট গাড়িগুলো সংস্কার করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/ এসকেডি




