ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নারীসহ ফ্ল্যাটে আটক সাবেক সেই ওসিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটে এক নারীর সঙ্গে অবস্থানরত পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ওই নারীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় শুক্রবারের (১৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনায় মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।

শুক্রবার সকালে নগরীর নাদের হাজীর মোড় এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে মাহবুব আলম ও এক নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। পরে তাঁদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

আরএমপির মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নারী অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ওই নারীর কোনো অভিযোগ না থাকায় মাহবুব আলমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মাহবুব আলম আটক নারীকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁর আন্নি আক্তার নামে এক নারী ওই ফ্ল্যাটে যান। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, প্রায় দুই ঘণ্টা দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পরও ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেননি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। সেখানে মাহবুব আলম ও এক নারীকে পাওয়া যায়।

পরে তাদের দুজনকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হলে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন আন্নি আক্তার। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, মাহবুব আলম তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়েছেন।

আন্নি আক্তারের আরও অভিযোগ, মাহবুব আলম বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত। গত চার মাসে তিনবার তিনি ওই নারীকে মাহবুব আলমের সঙ্গে দেখেছেন বলেও দাবি করেন। তবে সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে আগের ঘটনাগুলো কাউকে জানাননি বলে দাবি করেন আন্নি।

আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, আন্নি আক্তারের দেওয়া অভিযোগটি আগের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। শুক্রবারের ঘটনাসহ মাহবুব আলমকে ঘিরে ঘটে যাওয়া বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম একসময় রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা ও দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক এক স্ত্রীর অভিযোগের পর তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও রয়েছে।

বর্তমানে মাহবুব আলম নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। তবে শুক্রবার তিনি কোনো ছুটি না নিয়েই রাজশাহীতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ।

তিনি বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই। কাউকে না জানিয়েই তিনি রাজশাহীতে গেছেন। বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, মাহবুব আলম সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও তার মূল কর্মস্থল নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, ফ্ল্যাটে নারীসহ অবস্থানের ঘটনায় কোনো মামলা না হলেও মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ এবং বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী