
ঢাকার ধামরাইয়ে আটকের এক ঘণ্টা পর আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, যুবলীগ পরিচয়ে আটক করা হলেও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতা গিয়ে তাকে দলের কর্মী দাবি করলে তাদের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের ধামরাই পৌর কমিটির অন্তত দুইজন নেতা জানান, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আবু ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ধামরাই পৌর যুবলীগের সভাপতি আমিনুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় পর্যন্ত তিনি যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
যদিও আটকের পর আবু বক্করকে নিজেদের কর্মী দাবি করেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন জনি। আবু বক্কর ও সাব্বির হোসেন দুজনই ধামরাইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী ছিলেন।
আবু বক্করকে আটকের সময় প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুবলীগ সম্পৃক্ততায় আবু বক্করকে আটক করেন ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক। পরে তাকে ধামরাই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। এদিকে খবর পেয়ে ধামরাই থানায় আসেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন জনি। তিনি আবু বক্করকে বিজেপির কর্মী দাবি করেন ও একটি কমিটির তালিকা দেখান।
ওই কমিটির তালিকার একটি প্যাডের ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ওই কমিটিতে ২১ সদস্যবিশিষ্ট তালিকা দেখা যায়। এতে ৬ নম্বর ক্রমিকে মো. আবু নাম দেখা যায় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে। প্যাডের ওপরে কোনায় তারিখ দেওয়া হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৩। আর নিচে স্বাক্ষর রয়েছে ঢাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের। তবে স্বাক্ষরের সঙ্গে কোনো তারিখ দেওয়া নেই।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকলেও আবু বকর সিদ্দিক নিজে সেই পদের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জানান। এরপর এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান কোন পদে রয়েছেন।
আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ওসি ডাকছিল। পরে কিছুক্ষণ পরই চলে আসছি। আটক করে নাই।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে কখনো ছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি বলেন, ‘না না, বিজেপি আমি। প্রায় ৫-৭ বছর ধরে বিজেপি করি।’
গেল নির্বাচনের সময় নৌকার প্রচারের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করে একটি ছবি দেখা গেছে, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আগে তো কত জায়গায় কত ছবি উঠাইছি।
বর্তমানে বিজেপির স্থানীয় কমিটিতে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি সহসভাপতি পদে আছেন। ওই কমিটি ২০২৩ সালে অনুমোদিত হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
তবে কমিটিতে কোনো সহসভাপতি কোনো পোস্ট নেই জানালে পরবর্তীতে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, সহ সেক্রেটারি, তাই না?
বিজেপির কমিটি কতদিন হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৩ সালে বোধহয় কমিটি হয়েছে।
বর্তমান কমিটিতে তিনি কোন দায়িত্ব আছেন চাইলে তিনি বলেন, ‘আছে, একটা প্রক্রিয়া চলছে।’
আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, ‘আবু নামে কাউকে আমি আটক করিনি। আবু বক্কর সিদ্দিক নামে একজনকে একটি তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি চলে গেছেন। তাকে এখানে আটক করা হয়নি।’
আবু বক্কর সিদ্দিককে যুবলীগের পরিচয়ে আটক করা হয়েছিল এবং পরে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, এমন তথ্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা, জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, ‘উনি যুবলীগ করেন কিনা, এ ধরনের বিষয় নিয়ে পরে কথা বলবো।’ এরপর তিনি বিস্তারিত না বলে পরে কথা বলবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আপনি আমার স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।’
আবু বকর সিদ্দিককে আটকের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন জনি বলেন, ‘উনি যে কমিটি আছে ২০২৩ সাল থেকে তিনি সেই কমিটির তালিকা দেখাতে পারেননি। আর নতুন কিছু কর্মকর্তা বিষয়টি জানতেন না। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তার কমিটির বিষয়টি ঠিক আছে।’
আবু বক্কর সিদ্দিক আগে যুবলীগ করতেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুবলীগ করত, হয়ত। আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ২০২৩ সালে।’
যদিও আবু বকর সিদ্দিক ৫-৭ বছর ধরে বিজেপি করছেন বলে দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাব্বির হোসেন জনি বলেন, ‘২০২৩ সালে কমিটি হয়েছে। কমিটি পেয়েছি ২৩ সালের মাঝামাঝি।’
আবু বক্কর সিদ্দিক বিজেপিতে যুক্ত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন কিনা, ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে নৌকার পক্ষে প্রচার চালানোর একটি ছবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাব্বির হোসেন জনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তিনি পরে কথা বলবেন।’
পরে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চান না। তবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে আবু বক্কর সিদ্দিকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আবু বক্কর সিদ্দিককে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেছে এবং তিনি বিভিন্ন জায়গায় সভা করেছেন। পার্থ ভাইর সঙ্গেও ছবি আছে। এখনও অ্যাকটিভ আছে। পার্থ ভাই ভালোমতো চিনে।’
সাব্বির হোসেন জনি আরও বলেন, ‘একজন কোথায় কী করল, সবই তো আমি জানি না। স্থানীয় নির্বাচনগুলো এককভাবে করতে পারে।’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘একটা ভুল তথ্য ছিল। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, যে জন্য আনা হয়েছে, তথ্য মেলে না। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসআই এনামুল বলছে, এমন একটা তথ্য ছিল। পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির নেতাদের ভাষ্যমতে, তিনি ৩-৪ বছর ধরে তাদের সঙ্গে জড়িত। কমিটি ২৩ সালে হয়েছে।’
আরটিভি/এসএস


