ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সোয়া হাতের জুতার গল্প, ২০০ বছরের কুঠিবাড়িতে যত রহস্য

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
আঠারো শতকে ইংরেজ জমিদার কর্তৃক নির্মিত কুঠিবাড়ি : ছবি আরটিভি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি কুঠিবাড়ি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়ভাবে এটি ক্যাসপার সাহেবের কুঠিবাড়ি নামে পরিচিত। প্রায় সোয়া ৯ একর জায়গাজুড়ে থাকা এই স্থাপনার সঙ্গে জমিদারি পরিচালনা, খাজনা আদায়, বিচারকার্য ও সোয়া হাতের জুতা দিয়ে শাস্তির ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। তবে সংরক্ষণের অভাবে এর বিভিন্ন স্থাপনা ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আঠারো শতকের গোড়ার দিকে ইংরেজ জমিদার এডওয়ার্ড প্যারি ক্যাসপার এখানে কুঠিবাড়ি নির্মাণ করেন। কথিত আছে, সাপলেজায় আসার পর স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি ফরাজউল্লাহ তাকে জমি উপহার দেন। পরে সেখানে ক্যাসপারের জমিদারি সম্প্রসারিত হয়।

একসময় পৌষ মাসের শেষভাগে কুঠিবাড়িতে পুণ্যাহ উৎসব হতো। এ সময় খাজনা আদায়ের পাশাপাশি জাদু প্রদর্শনী, লোকগান, যাত্রা ও নিমাই সন্ন্যাস পালার আয়োজন করা হতো। এসব দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে অনেক মানুষ আসতেন। খাজনা বকেয়া রাখা বা অন্য অপরাধের জন্য প্রজাদের শাস্তি দেওয়ার কথাও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। কথিত আছে, সোয়া হাত মাপের একজোড়া জুতা দিয়ে অপরাধী প্রজাদের পেটানো হতো।

কুঠিবাড়ির মূল ভবনটি ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। চৌকোণাকৃতির ১৮টি খিলানের ওপর নির্মিত ভবনটি দোতলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর সঙ্গে ছিল আরও কয়েকটি স্থাপনা ও বড় একটি পুকুর। স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ওপরের তলায় ক্যাসপারের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ও তৈজসপত্র রাখা হতো।

কুঠিবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিলারগঞ্জ নামটিও। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ আমলের জমিদার শিলার সাহেবের নাম থেকে এলাকার নাম হয়েছিল শিলারগঞ্জ। তার ছেলে এডওয়ার্ড প্যারি ক্যাসপার এখানে কুঠিবাড়ি নির্মাণ করেন। পরে এলাকার নাম সাপলেজা হলেও ডাকঘরের নাম পরিবর্তন হয়নি। এখনো শিলারগঞ্জ পোস্ট অফিস নামটি চালু আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নায়েব, পাইক-পেয়াদাদের থাকার জন্য আলাদা ভবন ছিল। একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় অফিসে বসে খাজনা আদায় ও বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো। ক্যাসপারের একটি বড় বোট ছিল বলেও তারা জানান। শীত মৌসুমে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ, বর্তমান বরিশাল, থেকে তিনি ওই বোটে করে কুঠিবাড়িতে আসতেন।

শীতকালে থাকার কারণে ভবনটি উষ্ণ রাখার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, মূল ভবনের নিচের চার কোণে কয়লার আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা ছিল। তবে কুঠিবাড়ির ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত লিখিত তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে ক্যাসপারের ব্যক্তিজীবন, জমিদারি ও ভবন নির্মাণের নানা বিষয় এখনো অনেকটাই অজানা। স্থানীয়দের কাছে থাকা ক্যাসপারের ব্যবহৃত দুটি তরবারিসহ কিছু পুরোনো তৈজসপত্রও এখন আর পাওয়া যায় না।

বর্তমানে কুঠিবাড়ির তিনটি ভবনই সংস্কারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শানবাঁধানো ঘাটসহ পুকুরটিরও আগের জৌলুশ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মালিকানায় গেলেও স্থাপনাটি সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, অল্প কিছু বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। তা দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে আরও ভালোভাবে সংস্কার করা হবে, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কুঠিবাড়িটি মঠবাড়িয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে দ্রুত স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তা না হলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে দুই শতকের পুরোনো এই নিদর্শন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেরপুরে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের নতুন কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দল, শেরপুর জেলা শাখার নতুন কমিটির সদস্যদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শেরপুরে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের নতুন কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
পটলক্ষেতের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা
নওগাঁর বদলগাছীতে এক রাতের ব্যবধানে ১০ থেকে ১২ জন কৃষকের মাসের পর মাসের পরিশ্রম ও স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।  রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কেটে ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ। এতে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। ​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে সদ্য ফলন আসা শুরু হয়েছিল। কৃষক পরিবারগুলো প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল তুলে বাজারে বিক্রি করছিলেন।  ফসল বিক্রির এই আয় দিয়ে সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং নেওয়া ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। তবে সকালে মাঠে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছগুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকেরা। সরজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। কোথাও গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও মাটিজুড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে পটলগাছের লতা। ​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম আকুতি জানিয়ে বলেন, “অনেক কষ্ট ও অর্থ ব্যয় করে পটল চাষ করেছিলাম। সার, ওষুধ ও শ্রমিকের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। আশা ছিল ফসল বেচে সংসার চালাব। কিন্তু এক রাতেই দুর্বৃত্তরা সব শেষ করে দিল। এখন আমাদের কী হবে, বুঝতে পারছি না।” ​আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল বলেন, “এই পটলক্ষেতই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছে ফলন আসতে শুরু করেছিল, বাজারে বিক্রিও করছিলাম। সকালে মাঠে এসে দেখি সব গাছ কেটে রেখে গেছে।” ​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তবে কারা এবং কোন শত্রুতার জের ধরে এই কাজ করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি ফসলি জমি ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি পরিবারের জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ​দুর্ভোগে পড়া কৃষকেরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই ক্ষতি সামলে উঠতে প্রয়োজনীয় সরকারি আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা। ​এ বিষয়ে বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আরটিভি/এসএস
পটলক্ষেতের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা
অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে নিহতের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩ ককটেল বিস্ফোরণ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভোররাতে প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩ ককটেল বিস্ফোরণ
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চার মিনিটে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের গোপালচরণ এলাকায় এ বিস্ফোরণগুলো ঘটে। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে ফজরের সময় সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাসভবনের সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দুই মিনিট পর গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হয়। এর দুই মিনিট পর স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণগুলো চার মিনিটের মধ্যে ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরপর বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতংকিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা বলেন, ফজরের আগে প্রথমে আমার বাড়ির সামনে বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্কুলের সামনে এবং পরে স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। এক প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, পরপর তিনটি বিকট শব্দে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। এই এলাকায় আগে কখনও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকেও বাইরে দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলের খোসাগুলো নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসএস
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ
আরও পড়ুন
ট্যাক্সের হিসাব আছে, ডাস্টবিনের ময়লা সরানোর হিসাব নেই
বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা
বলেশ্বরের বুকে আর বাজবে না স্টিমারের হুইসেল
আরটিভিতে পানি সংকটের প্রতিবেদন প্রকাশ, পরদিনই ইউএনওর সরেজমিন পরিদর্শন