ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

১১ দলের লংমার্চ নিয়ে পুলিশের পেজে স্ট্যাটাস, কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। পুরোনো ছবি

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ’ ও গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পোস্টটি নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার পর সংশোধন করে পরে মুছে দেওয়া হয়।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তার নাম খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জিএমপি সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন। পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও সভাস্থলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে লংমার্চের গন্তব্য ও দাবিগুলো উল্লেখ করার পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি ও পুলিশের দায়িত্ব পালনের তথ্য তুলে ধরা হয়।

পোস্টে বলা হয়, লংমার্চটি আনুমানিক সকাল ৯টায় জিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে। পরে সকাল ১০টার দিকে ভোগরা বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ চলে যায়। এতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া পোস্টে বলা হয়, জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার ও ফোর্স লংমার্চের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন।

জিএমপির ওই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে পোস্টটির সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টটি প্রথমে সংশোধন করা হয়। পরে সেটি পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়। এরপর পোস্টটি দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে তাকে শোকজও করা হয়েছে।

দায়ী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেরপুরে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের নতুন কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দল, শেরপুর জেলা শাখার নতুন কমিটির সদস্যদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শেরপুরে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের নতুন কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
পটলক্ষেতের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা
নওগাঁর বদলগাছীতে এক রাতের ব্যবধানে ১০ থেকে ১২ জন কৃষকের মাসের পর মাসের পরিশ্রম ও স্বপ্ন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।  রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কেটে ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ। এতে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। ​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে সদ্য ফলন আসা শুরু হয়েছিল। কৃষক পরিবারগুলো প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল তুলে বাজারে বিক্রি করছিলেন।  ফসল বিক্রির এই আয় দিয়ে সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং নেওয়া ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। তবে সকালে মাঠে গিয়ে কাটা অবস্থায় গাছগুলো মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকেরা। সরজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। কোথাও গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও মাটিজুড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে পটলগাছের লতা। ​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুস সালাম আকুতি জানিয়ে বলেন, “অনেক কষ্ট ও অর্থ ব্যয় করে পটল চাষ করেছিলাম। সার, ওষুধ ও শ্রমিকের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। আশা ছিল ফসল বেচে সংসার চালাব। কিন্তু এক রাতেই দুর্বৃত্তরা সব শেষ করে দিল। এখন আমাদের কী হবে, বুঝতে পারছি না।” ​আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ইসরাফিল বলেন, “এই পটলক্ষেতই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছে ফলন আসতে শুরু করেছিল, বাজারে বিক্রিও করছিলাম। সকালে মাঠে এসে দেখি সব গাছ কেটে রেখে গেছে।” ​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তবে কারা এবং কোন শত্রুতার জের ধরে এই কাজ করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি ফসলি জমি ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি পরিবারের জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। ​দুর্ভোগে পড়া কৃষকেরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই ক্ষতি সামলে উঠতে প্রয়োজনীয় সরকারি আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা। ​এ বিষয়ে বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আরটিভি/এসএস
পটলক্ষেতের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা
অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে নিহতের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩ ককটেল বিস্ফোরণ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভোররাতে প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩ ককটেল বিস্ফোরণ
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চার মিনিটে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের গোপালচরণ এলাকায় এ বিস্ফোরণগুলো ঘটে। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে ফজরের সময় সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাসভবনের সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দুই মিনিট পর গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হয়। এর দুই মিনিট পর স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণগুলো চার মিনিটের মধ্যে ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরপর বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতংকিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা বলেন, ফজরের আগে প্রথমে আমার বাড়ির সামনে বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্কুলের সামনে এবং পরে স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। এক প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, পরপর তিনটি বিকট শব্দে আমরা আতংকিত হয়ে পড়ি। এই এলাকায় আগে কখনও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকেও বাইরে দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলের খোসাগুলো নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/এসএস
ভোররাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ
আরও পড়ুন
ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের রহস্য জানাল পুলিশ
অপ্রতিমসহ তিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহর স্ট্যাটাস
নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, স্থান-কাল জানে না পুলিশ
অপ্রতীমের প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ননস্টপ কাজ করে যাবো