ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীয়তপুরে আড়াই বছর পর নড়িয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ছবি: আরটিভি

নানা জটিলতায় প্রায় আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে উদ্বোধন করা হয়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নবনির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ।

জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগে মূলফৎগঞ্জ এলাকায় ছিল। ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে পুরোনো হাসপাতাল ভবনের অধিকাংশ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পরে নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

নড়িয়া পৌরসভা এলাকায় উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি প্রায় ছয় একর জমির ওপর প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর।

তবে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও নানা জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। কেদারপুর এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান দেওয়ান পুরোনো স্থানেই হাসপাতাল চালুর দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন হাসপাতাল চালু নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

দীর্ঘদিন হাসপাতালটি বন্ধ ও অব্যবহৃত থাকায় একপর্যায়ে বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটে। এতে চালুর প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যায় এবং প্রায় ছয় মাস অতিরিক্ত সময় হাসপাতালটি বন্ধ থাকে।

সবশেষে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে রোববার হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নড়িয়াবাসীর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ তৈরি হলো।

স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম বেপারি বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে পুরোনো হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই নড়িয়ার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নতুন হাসপাতালটি চালু হওয়ায় এখন আমাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ সহজ হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন আহমেদ, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ফারহানা কাদির লাবন্য, নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি সামসুল আলম দাদন, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, স্থানীয় কিছু মানুষের প্রতিবন্ধকতার কারণে গত দুই বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু করতে দেরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবা পেতে দুর্ভোগ হয়েছে। অবশেষে বহুল প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামীকাল থেকেই পুরোদমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে সয়েল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: দগ্ধ চারজনেরই মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে একে একে মারা গেছেন দগ্ধ চারজনই। স্বজনদের কাঁদিয়ে তাঁরা সবাই পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরের দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান স্বামী শরীফ ও স্ত্রী রোজিনা। একই দিন সকালে মৃত্যু হয় রোজিনার ভাই রিয়াজের। সবশেষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন দুর্ঘটনাকবলিত বাড়িটির কেয়ারটেকার রনি। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকেরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারজনের শরীরই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। বিস্ফোরণে রনির শরীরের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া শরীফ ও রিয়াজের প্রত্যেকের শরীরের ৪০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উল্লেখ্য, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে জমে থাকা গ্যাস থেকে এ মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি পরিবারের চার সদস্য গুরুতর দগ্ধ হন। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরটিভি/টিআর
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: দগ্ধ চারজনেরই মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে মোস্তাকিম (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু 
দুই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহত ৭
ভোলার বোরহানউদ্দিনে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী(৬০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহত ৭
ভোলায় দুই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জনের মৃত্যু
ভোলার বোরহানউদ্দিনে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী (৬০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন উপজেলার দালাল বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ আলী ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ির মৃত রেজু মুন্সীর ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে দালাল বাজার এলাকায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় শিশুসহ ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ আলী জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/টিআর
ভোলায় দুই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জনের মৃত্যু
পাবনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উপহার বিতরণ
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে অসহায় দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বী পাঁচ শতাধিক মানুষের মাঝে শারদীয় উপহার হিসেবে ৫০০ টি শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। 
পাবনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উপহার বিতরণ
আরও পড়ুন
‘বেশি বাড়াবাড়ি করিও না’: অনিয়মের প্রশ্নে সাংবাদিকদের ইউপি চেয়ারম্যান
কিশোরীর পেটব্যথা কমাতে মাকে তেল-পানি আনতে পাঠান মাদরাসার প্রিন্সিপাল, অতঃপর...
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদ্মায় চলছে মা ইলিশ নিধন, প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে পাড়ে
পল্লি চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশুর