
সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীতে অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার। শুধু শিকারই নয়, নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে বিক্রিও হচ্ছে এসব মাছ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পালেরচর, কাথুরিয়া, মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট, নাওডোবা, পৈলান মোল্লা, বড়কান্দি ও বিলাসপুর এলাকার পদ্মার চরে ও ঘাটে নিয়মিত বসছে ইলিশের হাট।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ও দুপুরে এসব এলাকায় অবাধে মাছ কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছ কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু কিছু জেলে দ্রুতগতির ‘ফাইটার ইঞ্জিন’ চালিত নৌকা ও ট্রলার ব্যবহার করে নদীতে মাছ শিকার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলে এসব দ্রুগতি সম্পন্ন ট্রলার নিয়ে তারা সহজেই পালিয়ে যায়।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ সময় জেলেদের সহায়তা হিসেবে জাজিরা উপজেলার ৩ হাজার ৩৭৬ জন তালিকাভুক্ত জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিংহভাগ এলাকায় চাল বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাছ ধরা বন্ধ করা যায়নি।
অভিযানের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, মৎস্য বিভাগের নিজস্ব কোনো স্পিডবোট না থাকায় এবং জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে ট্রলার ভাড়া করে পদ্মায় অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অভিযানের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ট্রলারের প্রকৃত মালিকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, অবৈধ শিকারে ব্যবহৃত ট্রলারমালিকদের তালিকা তৈরি করে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে এ বিষয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে


