
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কিশোরীকে দিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মামলা ও হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গুলশাখালী ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শাহ আলমের মা আনোয়ারা বেগম ও বাবা আব্দুল হাই লিখিত বক্তব্যে জানান, একই এলাকার জিনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে জিনোয়ারা বেগম তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে সাজিয়ে শাহ আলমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তাদের দাবি, শাহ আলমকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই বানোয়াট মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের নিজস্ব বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা।
সংবাদ সম্মেলনে একই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য হাজেরা বেগম উপস্থিত হয়ে একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, জিনোয়ারা বেগম ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধেও প্রায় ২০টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলা পরিচালনা ও আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তার ৬০ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একপর্যায়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে টিকে থাকতে না পেরে তিনি নিজের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তারা জঘন্য এই হয়রানি বন্ধে এবং জমি বিরোধের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান। পাশাপাশি, মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা মামলাটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আরটিভি/এমএ


