
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ প্রায় ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এ প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থেমে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের গুণগত মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী ও প্রকৌশলগত তদারকি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ এখনও অসম্পূর্ণ। প্রকল্প এলাকায় নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য উপকরণ পড়ে রয়েছে। দুই-তিনজন শ্রমিককে দেখা গেলেও মূল নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজের গতি কমে যায়। এরপর গত প্রায় ১৫ দিন ধরে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্মাণে নিম্নমানের বালু, ইট বা ব্লকসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন তারা। ছাদ নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রকৌশলগত মান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন, কার্যাদেশের শর্ত, ব্যবহৃত উপকরণের পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং প্রকৌশলীদের তদারকি নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। বালু, ব্লক, কংক্রিট ও রডসহ ব্যবহৃত উপকরণের নমুনা পরীক্ষা করে অনুমোদিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
নির্মাণকাজের মান ও বালু ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. হিমায়েত হোসেন বলেন, তারা দুজন যৌথভাবে প্রকল্পটির কাজ পরিচালনা করছেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
বালুর মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকেই বালু নেওয়া হচ্ছে এবং মান ঠিক রেখেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে বালু না নিলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে মো. হিমায়েত হোসেন বলেন, শ্রমিকরা ছুটিতে ছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক ইতোমধ্যে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। অন্য শ্রমিকরাও ফিরে এলে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
তবে প্রায় ১৫ দিন ধরে বড় একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না, এ সময়ে প্রকল্পের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা কর্মকর্তারা নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন কি না এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।
হবিগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও নিয়মিত নামাজও আদায় করছেন মুসল্লিরা। এর বিপরীতে বাহুবল উপজেলার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
একই জেলার অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় বাহুবল প্রকল্পের অগ্রগতি কেন পিছিয়ে রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা, প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং প্রকৌশলগত তদারকির বিষয়ে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিব উল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নকশা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী নির্ধারিত মানের কি না এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত কাজগুলো প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক।
একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, পরিশোধিত বিল, নির্ধারিত সময়সীমা এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকার কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঠিকাদারের পক্ষ থেকে পুনরায় পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরুর কথা বলা হলেও বাস্তবে কবে থেকে কাজ পূর্ণগতিতে শুরু হয় এবং নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
আরটিভি/এসকে


