ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ মাটিচাপা দিয়ে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
রেহানা পারভীন। ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে মরদেহের ওপর সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন। আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।

চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা পারভীন। ২৯ জুন দেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ হোসাইন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিপুল সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেন অভিযুক্তরা। এরপর আমজাদ তার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আওলাদ রেহানার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

হত্যার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত করে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনা গোপন করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

রেহানার নিখোঁজের ঘটনায় তার মা আইরিন আক্তার অপহরণ মামলা করেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের ধারায় রূপান্তর করা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তার পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। তবে সেখানেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে আওলাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলায় আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন। আর জামিনে রয়েছেন দুই বোন পাপিয়া ও মাকসুদা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৫০ শয্যার হাসপাতাল: এক্স-রে আছে-ফিল্ম নেই, জেনারেটর আছে-তেল নেই
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল ও ব্যবস্থাপনায় চলছে সেবা কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা।
৫০ শয্যার হাসপাতাল: এক্স-রে আছে-ফিল্ম নেই, জেনারেটর আছে-তেল নেই
অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কে মিলল ছাত্রদল নেতার মরদেহ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশ থেকে আঘাতের চিহ্নসহ তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 
অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কে মিলল ছাত্রদল নেতার মরদেহ
১১ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪১৩ শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার খালুয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ১০ জন শিক্ষক দিয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে।
১১ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪১৩ শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত
এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র
দাকোপ ইউনিয়নের শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজার সংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।
এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতংকে ১৫ পরিবার, বিলীন বসতঘর
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার। তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে একটি বসতঘর আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি।
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতংকে ১৫ পরিবার, বিলীন বসতঘর
আরও পড়ুন
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: ফাহাদ দাবিতে প্রকাশিত ছবি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী
‘আমিও তো সন্তানহারা, স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব’
একদিনে আলোচিত ৪ হত্যাকাণ্ড: কী হয়েছিল সেদিন