
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী আদর্শ লিপি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পাশে গড়ে তোলা একটি পোল্ট্রি ফার্মে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। এমনকি অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বমি করেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াজখালী এলাকায় বিদ্যালয়টির পাশেই পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপন করা হয়েছে। ফার্ম থেকে নিয়মিত দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় দুর্গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। পাঠদান চলাকালে দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও আশপাশের বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়ছেন।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল আক্তার বলে, ক্লাস করার সময় এমন দুর্গন্ধ আসে যে নাকে হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন স্যার-ম্যাডামের পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। মাঝে মাঝে বমি বমি লাগে।
এক অভিভাবক মোসা. সালমা আক্তার বলেন, আমরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য স্কুলে পাঠাই কিন্তু স্কুলের পাশেই এমনভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হয়েছে যে দুর্গন্ধে শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা দরকার।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. মিনু আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ স্কুলের দিকে এলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আবু সাঈদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের সমস্যা চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফার্মের মালিক বারবার কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বললেও পোল্ট্রি বিক্রি করে আবার নতুন করে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।
তবে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো. মজলু খান বলেন, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পোল্ট্রিগুলো বিক্রি করে দেব। এরপর আর এখানে পোল্ট্রি পালন করব না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদানের স্বার্থে পোল্ট্রি ফার্মটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আরটিভি/এমএইচজে




