ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

আবরারের খুনিদের শাস্তি কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
নিহত আবরার ফাহাদ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে পরদিন ভোরে মারা যান আবরার। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডে আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও ৭ বছর পরও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা কাটছে না আবরারের পরিবারের সদস্যদের।

বুধবার (৭ অক্টোবর) আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়িতে নেমে এসেছে পুরোনো শোক। সাত বছর আগে যে ঘর থেকে মাকে বিদায় জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন আবরার, সেই ঘরেই আজও সাজানো রয়েছে তাঁর ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বই-খাতা, পড়ার টেবিলসহ ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র। শুধু নেই পরিবারের মেধাবী সন্তানটি।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাসে ওঠার আগে মা রোকেয়া খাতুন নিজ হাতে ছেলেকে খাইয়ে দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে আবরারের শেষ দেখা। পরদিন ভোরে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারে যে শোকের ছায়া নেমে আসে, ৭ বছরেও তা কাটেনি।

নাতি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুরও। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বাঁচতে বাঁচতেই যেন আবরার ফাহাদের ঘাতকদের শাস্তি কার্যকর দেখে যেতে পারি।

পারিবরিক সূত্রে জানা গেছে, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন। বড় ভাই হত্যার পর ফাইয়াজও বুয়েটে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে ভাইয়ের স্মৃতি ও অসমাপ্ত স্বপ্নকে বয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি।

কুষ্টিয়ার বাড়িতে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে আবরারের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। শো কেসে রাখা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন, পড়ার টেবিল, বই-খাতাসহ প্রতিটি জিনিস পরিবারের কাছে হয়ে আছে স্মৃতির শেষ আশ্রয়। এসবের মধ্যেই সন্তানকে খুঁজে ফেরেন মা-বাবা।

আবরারের স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহাসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। ২০১৯ সালের সেই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের সন্তান কেড়ে নেয়নি, দেশজুড়ে তৈরি করেছিল ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ। আদালতের রায় হলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায় ৭ বছর পরও আবরারের পরিবারের কাছে বিচার প্রক্রিয়া যেন অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে।

প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকী ফিরে আসে, ফিরে আসে সেই শেষ বিদায়ের স্মৃতি। মা রোকেয়া খাতুনের হাতে খাওয়া শেষ খাবার, বাবার সঙ্গে শেষ কথা আর বাসে উঠে ঢাকার পথে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের মুখ। পরিবারের একটাই প্রত্যাশা, আদালতের দেয়া সাজা দ্রুত কার্যকর হবে এবং আবরার হত্যার বিচার পূর্ণতা পাবে।

আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ জানান, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তারা সন্তানের হত্যার বিচার পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তিনি বলেন, ৭ বছর কেটে গেল, অথচ এখনও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়নি। যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য আবরারের মৃত্যু হয়েছে, সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি আমরা আসামিদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
ছাত্রীর চিৎকারে ‘জুব্বা ও পায়জামা হাতে’ দৌড় দিলেন মাদরাসাশিক্ষক
পূজায় যাওয়ার পথে ভ্যান থামিয়ে নারীদের স্বর্ণালংকার লুট
নিজের সন্তানকে বিক্রি করে চুরির নাটক বাবার, অতঃপর...
সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ