
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার টিএনটি মোড় ও কাজিরহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
এ সময় টিএনটি মোড় ও কাজিরহাট বাজারের বিভিন্ন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কেন্দ্র, আইসক্রিম কারখানা ও সরিষার মিল তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রে ক্যাশমেমো বা মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার অপরাধে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’-কে ২৫ হাজার টাকা এবং ‘মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজ’-কে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযানের সময় গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো চালানে গ্যাসের দাম কম দেখালেও পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। কোম্পানির এ কারসাজির কারণে প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। নামমাত্র কমিশন বা লাভ ছাড়াই বেশি দামে গ্যাস কিনে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।
যদিও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতকারী একটি কোম্পানির কর্মকর্তা ও একজন খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১ হাজার ৭৪২ টাকায় গ্যাস কিনে ১ হাজার ৭৯২ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও অসাধু ডিলাররা পাইকারি বাজারে তা ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। পরবর্তীতে খুচরা বিক্রেতারা এই গ্যাস ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি করছেন।
ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, নির্ধারিত সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গ্যাস ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও সিন্ডিকেটের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভোক্তাসাধারণের অধিকার রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
উল্লেখ্য, এ অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ এবং জাজিরা থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
আরটিভি/এমএইচজে


