
ঋণখেলাপির কারণে শেরপুর শাখার ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ও ব্যবসায়ী আলহাজ মো. জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকে বর্ণিত ৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ১শ ২৩ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে যুগ্ম জেলা জজ আদালত, জামালপুরের বিজ্ঞ জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট এবং সেশন জজ ইকবাল মাহমুদ এ রায় প্রদান করেন। আদালত ইসলামী ব্যাংক শেরপুর শাখার খেলাপী গ্রাহক জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানাও জারি করেছে।
আদালত, পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সাকী অটো রাইস মিল প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদীন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি শেরপুর শাখা থেকে ১০৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ গ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ জোনের সর্ববৃহৎ খেলাপী গ্রাহক।
মঙ্গলবার বিকেলে ৭৩০/২৬ নম্বর দায়রা মামলায় জয়নাল আবেদীনের এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ১শ ২৩ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
গুঞ্জন রয়েছে, দেশের ব্যবসা গুটিয়ে সপরিবারে বিদেশে পাড়ি জমানোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন খেলাপী গ্রাহক জয়নাল আবেদীন।
তবে জয়নাল আবেদীন দাবি করেছেন, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডেসর বিষয়টি সঠিক নয় এবং এই মামলায় এখনও সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু হয়নি।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি শেরপুর শাখার শাখা ব্যবস্থাপক ও এভিপি মোহাম্মদ গোলাম মাসুদ এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংকের পাওনা আদায়ের জন্য আলহাজ মো. জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে লিখিত, মৌখিক ও সশরীরে ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দ বারবার ও প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তিনি ব্যাংকের টাকা পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। ফলে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করে।
তিনি আরও জানান, ব্যাংকের টাকা পরিশোধের জন্যই তিনি উক্ত পরিমাণের চেকটি প্রদান করেছিলেন। শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে ব্যাংকের পাওনা আদায়ে আইনি ও অন্যান্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসএস


