
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ইট ভাটায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অনন্ত ১৫ জন আহত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের চর বক্তাবলী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
আহতদের মধ্যে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর ছত্রছায়ায় সামেদ আলী বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকার ২০ থেকে ২৫টি ইটভাটায় চাঁদাবাজি এবং উচ্চমূল্যে মাটি বিক্রি করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর শওকত আলী আত্মগোপনে গেলেও সামেদ আলী এলাকায় থেকে যান। সম্প্রতি ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে মারধর করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে সামেদ আলী বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহের কথা বলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানের নাম উল্লেখ করে লোকজন পাঠাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ সভাপতি নজরুল প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে সামেদ আলীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, শুনতে পেরেছি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান একটি সভা করছিলেন। সেখানে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ দলবল নিয়ে গেছেন। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইটভাটার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। সংঘর্ষে অনেকেই আহত হয়েছেন, তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আরটিভি/এমএ


