
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম নামে এক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়া নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত সাদেক মিয়া বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গুরাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল আলম উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। আহত সাদেক মিয়া লামার হাদারপার (ভৈরবী বস্তি) গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনীতির পাশাপাশি বালু ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনা করতেন বদরুল। রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় তার সঙ্গে থাকা সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া। সেখানে তুহিন ও শাহিন নামে দুজনকে ধারালো ছুরি দিয়ে বদরুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে দেখেন বলে জানান তিনি। হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সোনা মিয়া।
পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোনে না পেয়ে নিজের আত্মীয়স্বজনকে খবর দেন সোনা মিয়া। স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদেক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া বলেন, ভোর পৌনে ৫টার দিকে বদরুলের সঙ্গে থাকা সাদেক মুঠোফোনে আমার ছোট ভাই মাহবুবকে ফোন করে বাঁচানোর আকুতি জানায়। এর পর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় গুরাগ্রামের শাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন মিলে তার ভাইকে হত্যা করে।
ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বদরুল ও সাদেকের ব্যবহৃত টিভিএস মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, রোববার ফজরের নামাজের সময় বদরুল ও সাদেকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় বদরুল নিহত হয়েছেন এবং সাদেক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির নাম বলেছেন। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এমএম




