
যশোরের কেশবপুরে মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ভেরচী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ভেরচী গ্রামের সড়ক দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির মৎস্য ঘেরে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের জন্য দুটি আলমসাধুতে করে ৩২ ড্রাম মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ব্যক্তি। খবর পেয়ে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস তাদের আটক করেন। পরে ইউএনও আনোয়ার হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) আইন ২০২০ অনুযায়ী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কোমলপুর গ্রামের মাহাবুর রহমানকে (৩৮) ২ হাজার টাকা ও একই উপজেলার ঘুটুদিয়া গ্রামের জাহিদুর ইসলামকে (৩৮) ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
মাছের খাদ্য বা পুকুরের সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার দেশে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মাছের খাদ্য বা ঘেরে সরাসরি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
অতীতে কিছু ক্ষেত্রে পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে ফাইটোপ্লাংটন বা অ্যালগি (শৈবাল) তৈরির জন্য জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা বা পোল্ট্রি ওয়েস্ট ব্যবহার করা হতো। কিন্তু কাঁচা বা অপরিশোধিত মুরগির বিষ্ঠায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরটিভি/এমএইচজে




