
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে মহিলা সমিতির অনুদান ও ঋণের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে আফজাল হোসেন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।
এদিকে সমিতির টাকা ভাগ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতিকে ২২ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে বীরনগর গ্রামে যান মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন। সেখানে সমিতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তার সঙ্গে সদস্যদের মতবিরোধ হয়। পরে অফিসে ফিরে এ বিষয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে ২১ জন নারীকে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়। ওই নারীদের কাছ থেকে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম এক হাজার টাকা করে মোট ২১ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
আফজাল হোসেন বলেন, সাইফুল নিয়মিত অফিসে আসেন না এবং দাপ্তরিক কাজেও সহযোগিতা করেন না। তিনি বিভিন্ন মানুষকে অফিসে নিয়ে এসে ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সম্প্রতি ঋণ দেওয়ার কথা বলে কয়েকজন নারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। তার নিজের এক বোনের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার কথা শুনেছি। বীরনগরে গিয়ে বিষয়টি জানার পর অফিসে ফিরে এলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম। তার দাবি, সমিতিকে চেক দেওয়া কিংবা টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সমিতির সদস্যরা সুনামগঞ্জ থেকে চেক নিয়ে টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফিরেছেন। ওই টাকা থেকে কোনো কর্মকর্তাকে ভাগ দেওয়ার বিষয়েও তিনি জানেন না।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বীরনগর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার কাছ থেকে কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের সঙ্গে তাদের বিরোধের বিষয়টি জানতে পারি। পরে অফিসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন। তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা করলে তিনি টেবিলের ওপর পড়ে আঘাত পান। এরপর অফিস থেকে বেরিয়ে যান। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
এদিকে উত্তর বীরনগর সততা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহিমা বেগম ও সম্পাদক করবুল নেছা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আফজাল হোসেন তাদের গ্রামে গিয়ে সমিতির টাকার ভাগ চান। তাদের দাবি, সমিতির টাকা উত্তোলনের পর তিন ভাগে ভাগ করতে হয়। এক ভাগ সভাপতি, এক ভাগ সম্পাদক এবং আরেক ভাগ অফিসের জন্য। তবে তারা সমান ভাগ দিতে রাজি না হওয়ায় কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে সেখান থেকে চলে যান।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এজেএম রেজাউল আলম বলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। অফিস সহকারীকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী জানান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




