
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামে গেলো ৩১ জুলাই ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সেদিন রাতে কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন হেমেন্দ্র, সতীন্দ্র, অরুণ ও অধীর দেবনাথ। পরে উদ্ধার হয় তাদের মরদেহ। প্রত্যেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাদের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে অভাব, স্বজনরা হয়ে পড়েছে দিশেহারা।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন সংগঠন ও দানশীল ব্যক্তিরা সহযোগিতা করলেও এবার শিশুদের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই পরিবারগুলোর।
চারপাশে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও ভবানীপুরের এই চার পরিবারে শুধুই স্বজন হারানোর হাহাকার। একদিন হয়ত মিলবে নতুন জামা, কিন্তু বাবার হাত ধরে পূজার মণ্ডপে যাওয়ার সেই আনন্দ যে আর কখনো ফিরবে না।
আরটিভি/এমএইচজে


