
হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। যে-কোনো সময় ছাদের অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব কক্ষে পাঠদান চলছে।
এতে আতংকিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতেও ভয় পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের এ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও রডে মরিচা ধরেছে এবং ঢালাইয়ের অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ছাদ থেকে ছোট ছোট অংশ খসে পড়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ২০ জুন পাশের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে প্রকাশ দাস নামে এক দপ্তরি কাম প্রহরী ছাদ ধসে আহত হওয়ার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া বলে, আমরা খুব ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি। পুরো কক্ষটাই ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদে বসে পড়াশোনা করার মতো জায়গা নেই। আমরা এমপি মহোদয় ও শিক্ষা অফিসের কাছে সাহায্য চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, আমরা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের বাচ্চারাও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠদান করছি। ভবন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হবে।
স্থানীয় সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে আনার চেষ্টা করব। আশা করছি, দ্রুত এর সমাধান হবে।
মাধবপুরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, এটির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারপরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, যে-কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ সংস্কার করতে হবে। সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরটিভি/এসএস


