
বরিশালের মুলাদীতে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদকের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জেরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা খাওয়ার সময় শুক্কুর আলীর ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর অভিযোগ, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলে রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন মিলে শুক্কুর আলীকে নৃশংসভাবে মারধর করেন।
স্থানীয় লোকজন শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অভিযুক্ত বারেক ফরাজী গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএইচএম




