ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

রাতে চোখে ঘুম লেগে আসে পাহারাদারের, এই সুযোগেই ঘটে ‘সর্বনাশ’

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
রাতে চোখে ঘুম লেগে আসে পাহারাদারের, এই সুযোগেই ঘটে ‘সর্বনাশ’

চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া এলাকায় একটি মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারের মালিক মো. আবুল খায়ের।

এ ঘটনায় আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন তিনি। ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এই মাছচাষি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে কচুয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাটিকরপাড়া-সংলগ্ন দক্ষিণ বিলে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারের মালিক আবুল খায়ের ওই গ্রামের হাজী দুলাল মিয়ার ছেলে।

খামারের মালিক আবুল খায়ের জানান, জমি ও পুকুর লিজ নিয়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করে প্রায় ১ হাজার ২০০ শতাংশ জায়গায় গত ছয় বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে খামারের পাহারাদার ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে বলে তার অভিযোগ।

তিনি জানান, বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে খামারের পাড়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরের পানিতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছে। কিছু মাছ পানির নিচেও তলিয়ে যাচ্ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে পানি থেকে মাছ তুলতে সহযোগিতা করেন। পুকুরে মরা মাছের আধিক্যের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকেও মাছ শিকার করতে দেখা যায়।

খামারের পাহারাদার ইব্রাহিম জানান, তিনি রাত একটা পর্যন্ত খামার পাহারা দিয়েছেন। এরপর ঘুমিয়ে পড়েন। তার ধারণা, এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে।

দীর্ঘ ছয় বছরের পরিশ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে তোলা খামারে এমন ঘটনায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি আবুল খায়ের। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তার। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দিনে চলতেও ভয়, সন্ধ্যা নামলেই এই সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারি সড়কের দুই পাশে ঘন জঙ্গল আর পাহাড়। মাঝখানে পিচঢালাই সড়ক। এই সড়কে চলাচলে লোকজন এখন আতঙ্ক থাকেন।
দিনে চলতেও ভয়, সন্ধ্যা নামলেই এই সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল
ট্রাকের ‘গোপন চেম্বারে’ মিললো ৩ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা
চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকায় ট্রাকের পাটাতনের নিচে বিশেষ কৌশলে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) উপপুলিশ কমিশনার শেখ শরীফুল ইসলাম। শেখ শরীফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার থেকে একটি ট্রাকে করে মাদক নিয়ে নগরীর কোতোয়ালি হয়ে সাগরিকার দিকে যাওয়া হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ পুলিশ লাইনের বিপরীত পাশে চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে রাত সোয়া ২টার দিকে ট্রাকটি সেখানে পৌঁছালে সেটি আটক করা হয়। এ সময় ট্রাকচালক রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চালক রুহুল আমিন ট্রাকের পাটাতনের নিচে বিশেষ কৌশলে তৈরি একটি চেম্বারে ইয়াবা থাকার কথা জানান। পরে তাঁর দেখানো স্থান থেকে, তাঁর নিজের হাতে বের করে দেওয়া ৩ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত যশোর-ট-১১-২৫৬৩ নম্বরের ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডবলমুরিং মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরটিভি/টিআর
ট্রাকের ‘গোপন চেম্বারে’ মিললো ৩ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা
দাদাকে কুপিয়ে হত্যা: দুই পা কেটে রাখা হয় ট্রাভেল ব্যাগে
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার নাতি রায়হান কবীর ওরফে রাব্বীকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ মধুপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুকুরটির দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। বুধবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বাচ্চু মিয়া রংপুর মহানগর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে তার ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই রাতে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানায়। পরে ঘটনা আড়াল করার জন্য তার মরদেহের দুই পা বিচ্ছিন্ন করে একটি সবুজ ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর বাচ্চু মিয়ার চাচাতো নাতি রাব্বির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ মধুপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন পুকুরে যায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পার্শে একটি পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কী কারণে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরটিভি/টিআর
দাদাকে কুপিয়ে হত্যা: দুই পা কেটে রাখা হয় ট্রাভেল ব্যাগে
বৃহস্পতিবার থেকে আবারও সাজেক সড়ক অবরোধের ঘোষণা
তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে আবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবরোধের ঘোষণা দেন। এর আগে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন কমিটির অনুরোধে এবং সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান জানিয়ে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু করা হলে ওই দিন বাঘাইহাট জোন ও প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়। পরে অবরোধ স্থগিত করা হয়। এরপর প্রশাসন দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং শর্ত ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় ১৫ অক্টোবর পুনরায় সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ পালন করা হয়। বিবৃতিতে দুই সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতেই রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে সাজেকের মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ জুমচাষিরা ভয়ে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কারের কাজে যেতে পারছেন না। নেতারা বলেন, এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সন্ত্রাস ও উৎপাত বন্ধ করতে তাদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। বিবৃতিতে নেতারা সাজেকে ভ্রমণে থাকা পর্যটকদের আজকের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানান। অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন নেতারা। বিবৃতিতে নেতারা এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান। আরটিভি/টিআর
বৃহস্পতিবার থেকে আবারও সাজেক সড়ক অবরোধের ঘোষণা
হিমাগারের অভাবে শত বছরের কান্না থামছে না মঠবাড়িয়ার কৃষকদের
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বছরজুড়ে উৎপাদিত হয় নানা ধরনের কৃষিপণ্য। আলু, টমেটো, করলা, ভুট্টা, শিম ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন উপজেলার অনেক কৃষক। কিন্তু উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা। বাজারে একসঙ্গে বেশি ফসল উঠলে দাম কমে যায়। তখন পচে যাওয়ার আশঙ্কায় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকেরা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকাজ হলেও এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো হিমাগার। কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে ফসল সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করা যেত। এতে একদিকে কৃষিপণ্যের অপচয় কমত, অন্যদিকে ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। উপজেলার কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মৌসুমে একসঙ্গে অনেক টমেটো বাজারে আসে। তখন প্রতি কেজি টমেটোর দাম পাঁচ টাকাও পাওয়া যায় না। অথচ ফসল উৎপাদনে খরচ হয় অনেক বেশি। হিমাগার থাকলে টমেটো সংরক্ষণ করে ১৫ থেকে ২০ দিন পর ভালো দামে বিক্রি করা যেত। এতে লোকসান এড়ানো সম্ভব হতো। হিমাগার না থাকায় আলুচাষিদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়ভাবে বীজ আলু সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর অন্য জেলা থেকে চড়া দামে বীজ কিনতে হয় তাদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। পাশাপাশি বীজের জন্য বাইরের বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। উপজেলার কৃষকেরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে হিমাগার স্থাপন করা হলে নিজেদের উৎপাদিত আলুর একটি অংশ বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো। আবার বাজারে দাম কম থাকলে আলু সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিক্রি করা যেত। এতে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া এবং লোকসানের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতো। শুধু আলু নয়, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত্রেও সংরক্ষণের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পণ্য দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা তখন কম দামেই পাইকারদের কাছে ফসল বিক্রি করেন। এতে উৎপাদনের পুরো খরচ তুলে আনাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকেরা মনে করেন, হিমাগার থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম বিবেচনা করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পেতেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয় কমত এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরও গতিশীল হতো। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, মঠবাড়িয়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমে কম দামে ফসল বিক্রির চাপ কমবে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগও পাবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুন নেছা সুমি বলেন, মঠবাড়িয়া উপজেলায় সরকারিভাবে কোনো হিমাগার নেই। অথচ এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে রবিশস্যসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা অনেক সময় তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। শুধু উপজেলা পর্যায়ে নয়, প্রতিটি ইউনিয়নে ছোট আকারের মিনি হিমাগার স্থাপন করা হলেও তা কৃষকদের জন্য উপকারী হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আরটিভি/টিআর
হিমাগারের অভাবে শত বছরের কান্না থামছে না মঠবাড়িয়ার কৃষকদের
আরও পড়ুন
ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্র
রাতে নিখোঁজ, সকালে সড়কের পাশে মিলল যুবকের মরদেহ
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ইঙ্গিত