
দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত উপজেলা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া। উপজেলার অন্যতম নদী বলেশ্বর। নদী একদিকে যেমন উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা হয়ে উঠেছে বড় বাধা।
ফলে প্রতিনিয়তই নদীতে দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে এসব দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে নেই নিজস্ব ডুবুরি দল, স্পিডবোট কিংবা অ্যাম্বুলেন্স। ফলে নদী কিংবা খালে যেকোনো নৌযান দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জেলার সাতটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ‘ক’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ‘ক’ শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে থাকা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। এ ছাড়া প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় প্রায়ই বিলম্বিত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। এতে একদিকে স্বজনদের আহাজারি দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি ও উদ্ধারকর্মীদের ভোগান্তি।
নদীবেষ্টিত এ উপজেলায় দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে আধুনিক সরঞ্জামসংবলিত ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বহুতল ভবনে আগুন নেভানো ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের পাশাপাশি বলেশ্বর নদীর তীরে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি তাদের। তাদের মতে, নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিও কমানো যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলায় অনেক নদী ও খাল রয়েছে। এসব নদ-নদীতে দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল আনতে হয়। ফলে সময়মতো উদ্ধারকাজ শুরু করা যায় না। শুধু তা-ই নয়, নৌদুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক স্পিডবোটও নেই। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তানভীর হাসান বলেন, এখানে নদ-নদী ও খাল-বিলের সংখ্যা বেশি। প্রায়ই নদী ও খালে ডুবে মানুষ নিখোঁজ হন। বরিশাল থেকে ডুবুরি দল আসতে আসতে অনেকেই মারা যান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলো আধুনিকায়ন করা হয়নি। এখানে ডুবুরি দল, স্পিডবোট ও অ্যাম্বুলেন্স খুবই জরুরি।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতি শনিবার গণসংযোগ এবং রবিবার মহড়া পরিচালনা করি, যাতে মানুষ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থাকেন। আমাদের স্টেশনে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। এখানে ২৩ জন জনবল রয়েছেন, যাঁরা সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকেন। এ ছাড়া স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলেশ্বর নদীর পাড়ে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করা গেলে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




