
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জন্মের পরপরই অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এক নবজাতককে চার ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভনে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের ফলে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই তরুণী একটি সন্তানের জন্ম দেন। পরে নবজাতকের পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দেড় লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নজরে এলে তার নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে শিশুকে হস্তান্তরের জন্য করা চুক্তিপত্রও।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, নবজাতককে উদ্ধার ও এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




