
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বিনা পারিশ্রমিকে ৩৯৬টি কবর খনন করেছেন হাফেজ শিকদার। ইচ্ছা ছিল ৪০০টি কবর খননের মাইলফলক ছোঁয়ার। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মারা গেছেন তিনি। অন্যের শেষ ঠিকানা তৈরি করা এই মানুষকে দাফন করা হয়েছে নিজের নির্ধারিত কবরেই।
কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাফেজ শিকদার পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ও বিনা পারিশ্রমিকে কবর খননের জন্য এলাকায় বিশেষ পরিচিতি ছিল তার। কারও মৃত্যুর খবর পেলেই কবর খুঁড়তে ছুটে যেতেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন হাফেজ শিকদার। ২৪ অক্টোবর রাতে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মেজো ছেলে মো. হারিস শিকদার ও ছোট ছেলে এস এম আলমাস জানান, এলাকায় বা আশপাশে কারও মৃত্যুর খবর পেলেই তাদের বাবা কবর খননে চলে যেতেন। ৪০০টি কবর খননের ইচ্ছা ছিল তার। নিজের মৃত্যুর কথা ভেবে আগেই বাড়ির সামনে কবরের জায়গা নির্ধারণ এবং কাফনের কাপড় কিনে রেখেছিলেন তিনি।
২৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় কুয়াকাটা খানকায়ে সালেহিয়া কমপ্লেক্স মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে নিজের নির্ধারিত জায়গাতেই তাকে দাফন করা হয়।
আরটিভি/এমএইচজে


