
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও সদর, নবগঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলায় মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার।
ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনী সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবেন ১৯০ জন এসআরবি সদস্য, প্রায় আড়াই হাজার আনসার সদস্য এবং পুলিশ সদস্যরা।
এদিকে, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের অনুষ্ঠান শেষে তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ হুঁশিয়ারি দেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
ভোটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানাতে বুধবার নির্বাচন কমিশনে যান জোটের নেতারা। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির সিনিয়র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।
বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন মাগুরার মতো হলে সরকারের পরিণতি ভালো হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে তিনি আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সব মিলিয়ে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই এখন নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আরটিভি/এসকে


