
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জুতা খুলে প্রবেশের নিয়ম চালু করা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মণ্ডল। এ ধরনের সংবাদকে ‘সস্তা নিউজ’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সমাজসেবা কার্যালয় বা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভালো হতো। তবে তার এ মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
‘জুতা খুলে প্রবেশ করতে হয় সরকারি অফিসে’ শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দৈনিক যুগান্তর, আগামীর সময়, জাগো নিউজ, হবিগঞ্জের সমাচার ও ফোকাস নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মন্তব্যে রুবেল মণ্ডল লেখেন, ‘এসব সস্তা নিউজ করার আগে সমাজসেবা অফিস বা উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে ভালো হতো। কাউকে জুতা খুলে প্রবেশ করতে বলা হয়নি। অফিসের পরিবেশ সুন্দর করা হয়েছে মাত্র। অফিসের অবকাঠামো সুন্দর করা ও সেবার মান বাড়ানো সুশাসনের একটি অংশ।’
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জুতা খুলে প্রবেশের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ নিয়ে সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জুতা খুলে প্রবেশ করতে হলেও প্রভাবশালী কয়েকজনকে জুতা না খুলেই অফিসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এতে বৈষম্যমূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ।
তবে এ উদ্যোগের পক্ষে ইতিবাচক মতামতও পাওয়া যাচ্ছে। সমাজসেবা কার্যালয়ের কয়েকজনের মতে, কর্মকর্তার এ উদ্যোগটি ভালো ও ব্যতিক্রমী। এতে অফিসের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে আয়ার খরচ কমবে এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত হবে। তাদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা সব সরকারি অফিসে চালু করা উচিত।
কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী রঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও স্যার জানেন। সবার ভালোর জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মণ্ডল এর আগে জানিয়েছিলেন, জুতা রাখার জন্য বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অফিসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে কোনো নিয়ম বা বিধি ভঙ্গ করা হয়নি।
তবে এ নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা কয়েকজন। সেবাগ্রহীতা নাজমা বেগম বলেন, এ ধরনের নিয়ম তিনি কোথাও দেখেননি। পায়ে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাকে জুতা খুলে অফিসে প্রবেশ করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে দৈনিক ক্রাইম সিনের সম্পাদক ও মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কায়েস আহমেদ সালমান বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তার মন্তব্যটি দেখে তার হাসি পেয়েছে। তিনি সংবাদকে সস্তা নিউজ বলছেন। ভারী নিউজ দ্রুতই প্রকাশিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবাদকর্মীদের কাজ হলো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়া যেতে পারে।
দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, সরকারি অফিসে জুতা খুলে প্রবেশের বিষয়টি আজগুবি। এ ক্ষেত্রে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই অফিসে কেউ জুতা খুলে এবং কেউ জুতা না খুলে প্রবেশ করলে বৈষম্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, জুতা খোলার নিয়ম থাকলে তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বিশেষ করে পায়ের সমস্যা থাকা সেবাগ্রহীতাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সেবাগ্রহীতাদের সুবিধা, সমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অন্যরা। ফলে মাধবপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের এ উদ্যোগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জুতা খুলে প্রবেশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চালু থাকা এ নিয়ম নিয়ে সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জুতা খুলে প্রবেশ করতে হলেও প্রভাবশালী কয়েকজনকে জুতা না খুলেই অফিসে ঢুকতে দেখা গেছে। এতে বৈষম্যমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
আরটিভি/এমএম


