
খুলনার পাইকগাছায় উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ১০টি কলেজের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের হার আশানুরূপ নয়। সর্বোচ্চ পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাসের হার মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ফলাফল উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ফসিয়ার রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৪ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ছয়জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লক্ষীখোলা কলেজিয়েট স্কুল। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৭৯ জন এবং ফেল করেছেন ৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন আটজন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
কপিলমুনি কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ১৪২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ২০২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ছয়জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
হরিঢালী কপিলমুনি মহিলা কলেজ থেকে ৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৪ জন। ফেল করেছেন ৪৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।
এদিকে উপজেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর.কে.বি.কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট স্কুলের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৩৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১২৮ জন। ফেল করেছেন ৩০৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
পাইকগাছা সরকারি কলেজ থেকেও আশানুরূপ ফলাফল আসেনি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৮৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।
উপজেলার অন্যান্য কলেজের ফলাফলও বেশ হতাশাজনক। কালিনগর কলেজ থেকে ৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৪ জন। ফেল করেছেন ৬০ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।
চাঁদখালী কলেজ থেকে ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র আটজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
শহীদ আয়ুব ও মুছা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ থেকে ২৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩৪ জন। ফেল করেছেন ২৩২ জন। পাসের হার ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে সরদার আবু হোসেন কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৯ জন। পাসের হার মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, সরদার আবু হোসেন কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও অধ্যয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ধারদেনা করে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাইকগাছার ১০টি কলেজের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানেই পাসের হার ৬০ শতাংশে পৌঁছায়নি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। বিশেষ করে বড় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান উন্নয়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি যত্ন এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিচালনব্যবস্থা যথাযথভাবে তদারকির আওতায় আনা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মধ্যেই দায়িত্ব শেষ না করে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কেন এতসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং তা কাটিয়ে উঠতে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
পাইকগাছার শিক্ষাব্যবস্থার এ চিত্রে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আরটিভি/এমএইচজে




