
খুলনার পাইকগাছায় সড়কে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও চালকদের অসচেতনতার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তিনটি যাত্রীবাহী পরিবহন ও একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আনন্দ পরিবহন ভোররাতে পাইকগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘোষনগর মোড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিদ্যুতের খুঁটি বহনকারী যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর পাইকগাছায় হানিফ পরিবহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এর চারদিন পর ২৬ অক্টোবর কিংফিশার পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এরপর ৩০ অক্টোবর উপজেলার মাহমুদকাটি থেকে বাদামতলা সড়কের মধ্যে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। সর্বশেষ ঘোষনগর মোড়ে আনন্দ পরিবহনের দুর্ঘটনা ঘটে।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সভাপতি শফিউল ইসলাম জানান, তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং চালকদের অসচেতনতা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের প্রবণতাও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ এবং যানবাহনের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, পাইকগাছার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।
সড়কে প্রতিদিন মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বেপরোয়া গতি ও অসচেতনতার কারণে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
আরটিভি/এমএইচজে




