
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকসেবী এক সন্তানের বিরুদ্ধে।
মাদকসেবী ওই যুবক মাদক মামলায় পাঁচ মাস কারাভোগের পর রোববার (১ নভেম্বর) জেল থেকে বেড়িয়ে মোবাইল ফোনে তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে নাতিকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন নাসিমা বেওয়া (৪৭)। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী নাসিমা বেওয়া ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের দফাদার মোড় এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম মৃত হবিবর রহমান। অভিযুক্ত ছেলের নাম রাজু মিয়া (২২)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর নাসিমা বেওয়া দুই ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বড় ছেলে রাজু মিয়া মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পরিবারের। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক বছর আগে রাজুর স্ত্রী সন্তান ও স্বামীকে রেখে ঢাকায় চলে যান। এরপর মাদকের টাকার জন্য রাজু মায়ের ওপর নির্যাতন চালানো এবং ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় গত ২ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। রাজু কারাগারে যাওয়ার পর ভয়ে তার ছোট ভাই লিমন (১৮) ঢাকায় চলে যান বলে জানা গেছে।
পরে রোববার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাজু মুঠোফোনে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ নাসিমার। এতে ভীত হয়ে ওই দিনই নাতি মিনহাজকে (৭) নিয়ে বাবার বাড়ি পাইকেরছড়ায় চলে যান তিনি। এরপর রাজু তাদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালান এবং মাকে খুঁজতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাসিমা বেওয়া জানান, ছেলের ভয়ে তিনি বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রোববার রাতে থানায় গেলে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে নিজের পরিস্থিতির কথা জানান তিনি।
নাসিমা বেওয়া বলেন, আমি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গিয়েছিলাম, তারা ইউএনওর কাছে যেতে বলেছে। ইউএনওর কাছে আসার পর আবার থানায় যেতে বলেছেন। রাজু আমাকে পেলে মেরে ফেলবে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে রোববার রাতে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজু কারও কথা শুনতে চান না। তিনি মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন এবং ঘরের তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছেন। রাজু মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার হুমকিও দেন।
ইউএনও অমৃত দেব নাথ বলেন, ওই নারী আমার কাছে এসেছিলেন। তাকে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


