
বেতন ভাতার দাবিতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অফিস কক্ষে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সহকর্মীরা। এ সময় তালা দেওয়া অফিস কক্ষের সামনে বারান্দায় বসে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা।
সোমবার সকাল দশটায় অফিস কক্ষে মাদরাসা সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানকে তালাবদ্ধ করে রাখেন অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা জানান, এমপিও ভুক্ত মাদরাসাটির সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে মাদরাসার সব শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন ভাতা ৬ মাস থেকে বন্ধ রেখেছেন সুপার।
সহকারী শিক্ষক ইমরুল কায়েস জানান, দীর্ঘদিন থেকে মাদরাসার সুপার ও অফিসসহকারীর মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত ঝামেলা চলছে। এরই প্রেক্ষিতে সুপার সবার বেতন বন্ধ রেখেছে। আমরা ৬ মাস থেকে বেতন ভাতা পাই না। আমাদের মাদরাসা এমপিও ভুক্ত। সুপার আমাদের বেতন আটকিয়ে অমানবিক কাজ করেছেন। আজ আমরা তাদের দুজনকেই আটক করেছি। এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
আরেক সহকারী শিক্ষক রত্না পারভিন জানান, বেতন ভাতা ছাড়া তাদের পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারি না। বাধ্য হয়ে সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।
সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বেতন ভাতা না দেওয়া পর্যন্ত তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। বেতন ভাতা প্রদান করলে তারা পাঠদানে ফিরবেন।
অবরুদ্ধ সুপার সাইদুর রহমান অফিস সহকারী শফিয়ার রহমানের উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, আমি বেতন আটকাই নাই। বেতনের সব কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলাম, সেগুলো অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
তবে অফিস সহকারী শফিয়ার রহমান, এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি বেতন দেবেন, তাতে আমার আপত্তি থাকার কথা না। উনি সব মিথ্যা কথা বলছেন।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি সুরাহা করতে মাদরাসার সভাপতিকে অবগত করা হয়েছে।
আরটিভি/এসএস



