
সুন্দরবনের দুবলারচরে শুরু হয়েছে শুঁটকি মৌসুম। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কেটে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে নেমে পড়েছেন। মৌসুম শুরুর চার দিনে সাগরে প্রচুর মাছ পেয়ে জেলেরা বেজায় খুশি। জেলে মৎস্যজীবীদের পদচারণায় এখন মুখরিত দুবলার আলোরকোলসহ অন্য ৩টি চর।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচরের ৮১ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে দুবলা জেলে পল্লী। দেশের ৮০ ভাগ শুঁটকি মাছ আহরণ হয় দুবলারচর থেকে। সাগর থেকে লইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, রুপচাঁদা ও পোয়াসহ নানা প্রজাতির মাছ ধরে শুঁটকিকরণের জন্য দুবলার ৪টি চরে ১০ হাজার জেলে সমবেত হয়েছেন।
অক্টোবর থেকে মার্চ এ ৫ মাস পর্যন্ত জেলেরা দুবলারচরে অবস্থান করে সাগরে মাছ ধরেন। শুঁটকি আহরণ মৌসুমে এবার শুঁটকি পল্লীতে জেলে-বহরদারদের জন্য ১ হাজার ১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো ও বিভিন্ন নিত্যপন্যের ১১৬টি দোকান ঘর তৈরির অনুমতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব মাথায় নিয়ে দুবলারচরে এবারের শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। সাগরের আবহাওয়া ভালো হওয়ায় জেলেরা গত চারদিনে প্রচুর মাছ পেয়েছেন। এ বছর ১০ হাজার জেলে দুবলারচর অঞ্চলে এসেছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী মোবাইল ফোনে বলেন, মৌসুমের প্রথম দিনেই আলোরকোলে এসে জেলেদের কেউ তাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরিতে ব্যস্ত এবং কেউ সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। গত চারদিনে সাগরে জেলেরা প্রচুর মাছ পেয়ে খুশি হয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটিয়ে জেলেরা গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। তারা মোটেই সময় নষ্ট করতে চাননা। গত ৪ দিনে ধরা মাছ শুঁটকি করার জন্য তাদের বানানো মাচায় বিছিয়ে দিয়েছেন, কেউ মাটিতে ত্রিপলের ওপর মেলে দিয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, দুবলার শুঁটকি পল্লীতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণে জেলেদের প্রয়োজনীয় দেশীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাদের আবাসস্থল নির্মাণে সুন্দরবনের কোনো গাছপালা ব্যবহার করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, এ বছর জেলেদের থাকার জন্য ১ হাজার ১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ১১৬টি দোকান ঘর তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আলোরকোলে ১শ’ ১০টি, মাঝেরকেল্লায় ২টি, নারিকেলবাড়ীয়ায় ২টি ও শেলারচরে ২টি দোকান বসবে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর দুবলারচর থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুবলারচর থেকে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল।
মাছ শিকারের আড়ালে কেউ যাতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি শিকারসহ কোনো গাছপালা কাটতে না পারেন, সে জন্য বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলেও উল্লেখ করেন এ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। সূত্র: বাসস
আরটিভি/আইএম




