
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পর্যটনকেন্দ্র চিনামাটির পাহাড়ে স্থাপিত হতে যাচ্ছে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব জনপদ। পাহাড়, নদী, লেক ও সবুজ প্রকৃতির টানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, চিনামাটির লেক, সোমেশ্বরী নদী, রানীখং পাহাড়, গারো পাহাড় ও সাধুপাড়াসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘিরে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা।
এসব পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একান্ত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৬টি অস্থায়ী পদ সৃষ্টি এবং দুটি মোটরসাইকেল টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা-৫ থেকে এ-সংক্রান্ত সরকারি পত্র জারি করা হয়। উপসচিব কাজী লুতফুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে তদন্তকেন্দ্র স্থাপন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এবং যানবাহনের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দুর্গাপুরের পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড় ও চিনামাটির লেক। প্রতিদিনই এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় জমে। বিশেষ করে ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পাশাপাশি সোমেশ্বরী নদীর বালুচর, রানীখং পাহাড়, সাধুপাড়া ও গারো পাহাড়ের পাদদেশেও পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে।
তবে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, অপরাধ ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ, দুর্ঘটনায় দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল।
চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হলে পর্যটন এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও তৎপরতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পর্যটকেরা আরও নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। পাশাপাশি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়াও সহজ হবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এ উদ্যোগকে দুর্গাপুরের পর্যটন উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চিনামাটির পাহাড়সহ আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটন সম্ভাবনাময় দুর্গাপুরের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ ধরে রাখতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্র সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
আরটিভি/এসকে


