
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে বিদ্যালয় প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ক্লাস না নিয়েই বাসায় ফিরে যান।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসা একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষক মুসার বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে হাজির হন। প্রথমে শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। পরে চাপের মুখে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপনে বিয়ে করেন ওই শিক্ষার্থীকে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এ ঘটনার পরও নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে গোপনে ওই শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়ি থেকে আবার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসা ওই ছাত্রীকে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক এবং ওই শিক্ষার্থীর দুইদিন ধরে শিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান ও রাত্রি যাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।
আর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তিনদিন আগে অবগত হয়েছেন। তার মতে, এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। প্রধান শিক্ষক অফিসের কাজে ঢাকায় থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, দ্রুতই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনা সম্পর্কে বিদ্যালয় পক্ষ থেকে তাকে অবগত করা হয়নি। তবে বাল্যবিবাহ একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। তারপরও নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা সন্তানের সমতুল্য, এমন ঘটনায় তারা হতবাক। ঘটনার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরটিভি/এসএস




