
ফরিদপুরের সদরপুরে আবাসিক হেফজ মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে (১০) কক্ষে আটকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাররশি এলাকার আজিবুন্নেছা আন্তর্জাতিক হিজবুল কুরআন মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন।
আহত শিশু আব্দুল্লাহ (১০) সদরপুর উপজেলার দক্ষিণ আটরশি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও লিজা আক্তার দম্পতির ছেলে। সে ওই মাদরাসা আবাসিক হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিমের ভাই মুরসালিন এবং মাদরাসার তিন শিক্ষার্থী রাজিব, রায়হান ও সুজন মিলে আব্দুল্লাহকে মারধর করেন।
মুরসালিন নগরকান্দা উপজেলার ভুলাদিয়া গ্রামের মিরান শেখের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মুরসালিনকে নাম ধরে ডাকায় আব্দুল্লাহর ওপর ক্ষিপ্ত হয় অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে তাকে মাদরাসার একটি কক্ষে আটকে হাত-পা, বুক, পিঠ, নাক ও মুখে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়। মারধরের পর ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে কিছু বলতে পারেনি।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে দেখেও মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল করিম যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। তিনি শিশুটিকে একটি নাপা ওষুধ খাইয়ে জানাজার নামাজে অংশ নিতে চলে যান। পরে জানাজা শেষে মাদ্রাসায় ফিরে শিশুটির জ্বর দেখতে পেয়ে তার বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে শিশুটির মা লিজা আক্তার ও চাচা দ্রুত মাদরাসায় যান। পরে তারা বিষয়টি সদরপুর থানায় জানান। খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে যান। পরে তার নেতৃত্বে শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শিশুটির মা লিজা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে কক্ষে আটকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা মামলা না করতে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




