ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন পে স্কেলের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে যাদের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ফাইল ছবি

বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রায় ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল চালুর ঘোষণায় ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে, এখনও সব শ্রেণির কর্মীদের জন্য বিষয়টি সমানভাবে স্পষ্ট নয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হলেও পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে এজন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণের তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে কীভাবে, কোন ধাপে এবং কারা আগে এই সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দটি সরাসরি ‘সেলারি অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস’ খাতে না দেখিয়ে ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’-এর আওতায় রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্ভাব্য সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার হতে পারে। তবে, বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের গতির ওপর।

আরও পড়ুন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যে ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, পরবর্তী ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং পরে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, ১ জুলাই থেকে পে স্কেল কার্যকর হলেও সবাই একসঙ্গে পুরো সুবিধা হাতে পাবেন না।

সূত্র জানিয়েছে, জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে অক্টোবর পর্যন্ত।

নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে পে কমিশন। বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। তবে, চূড়ান্ত গেজেট, গ্রেডভিত্তিক কাঠামো ও প্রথম ধাপে কত শতাংশ কার্যকর হবে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

হত বুধবার (২৪ জুন) সচিব কমিটির বৈঠকে পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। তবে, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী-সংক্রান্ত সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও একটি বৈঠক হতে পারে।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা গণমাধ্যমের সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার বা বাস্তবায়নের ধাপ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় থাকবেন।

জানা গেছে, সরকার তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে। প্রথম প্রস্তাবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি, দ্বিতীয় বিকল্পে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি, আর তৃতীয় বিকল্পে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাজেটে সংরক্ষিত অর্থের মধ্যে তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে পেনশন পুনর্নির্ধারণ কিংবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারীদের মতো একই সময়ে ও একই পদ্ধতিতে সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।

সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ ও বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কেউ সরাসরি সরকারি বেতন কাঠামো অনুসরণ করেন, আবার কেউ নিজস্ব সার্ভিস রুলস অনুযায়ী পরিচালিত হন। অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়।

ফলে, এই শ্রেণির কর্মীরা আছেন অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তায়। সরকারি ঘোষণায় তাদের স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ—কোনোটিই বলা হয়নি। তাদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

সব মিলিয়ে নবম পে স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পেনশনভোগী, এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এখনও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। গেজেট, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাই নির্ধারণ করবে—কারা এখনই নতুন বেতনের সুবিধা পাবেন, আর কারা অপেক্ষায় থাকবেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। সবশেষ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়ায় বাজুস। এর আগে এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। দুই দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে মোট ২ হাজার ৭৪১ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। এদিকে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা প্রতি ভরি। অর্থাৎ, আজকের হিসাবে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে গহনা কিনতে ক্রেতাকে আরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আরটিভি/ এমএ
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজির দামও বাড়াতে হয়েছে। এতে বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন।
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: পথে পথে গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য
দেশের বিভিন্ন রুটে সরকার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর আগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই নৈরাজ্য এখনও চলছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: পথে পথে গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
আরও পড়ুন
নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভেদে বাড়ছে চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা
নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত, আসছে বড় পরিবর্তন
নতুন পে-স্কেলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন কত হবে
নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন কোচ-ক্রীড়াবিদরাও