ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ এএম
সৌরবিদ্যুতের পুরনো ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎকে অন্যতম কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, এ ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি প্রমাণ করে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য পরিচ্ছন্ন বা সবুজ জ্বালানি এখন শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয় নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন, যা টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও নিশ্চিত করতে পারে।

শফিকুল আলম বলেন, চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করায় ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম অনুভব করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট বরাদ্দ এবং সৌর প্যানেল আমদানিতে ১০ বছরের শুল্কমুক্ত সুবিধা ঘোষণা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, এ কর সুবিধা আরও সহজ করে সব উদ্যোক্তার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।

পাকিস্তানের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেখানে এ ধরনের নীতিগত সুবিধার ফলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কর-সুবিধা শুধু অনুমোদিত প্রকল্পের উদ্যোক্তারাই পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ বা স্বতন্ত্র ক্রেতারা সৌর প্যানেল আমদানি করলে একই সুবিধা পান না, যা সৌরবিদ্যুতের প্রসারে একটি বড় বাধা।

ড. ইজাজ হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। কারণ এটি সরাসরি জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ, নেট মিটারিংয়ের সম্প্রসারণ, দেশীয় উৎপাদনে প্রণোদনা এবং দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৭ মে জাতীয় সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা উদ্বোধনকালে বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এ সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৮১৮ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ১১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এসব প্রকল্প ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২৯০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার আরও ১২টি সৌর প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, নিজস্ব পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে দেশের ১৯টি স্থানে মোট ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সবুজ জ্বালানির অংশ বাড়ানো যায়।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, গৃহস্থালি পর্যায়ে মানুষকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা গেলে সরকারের বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৭ (এসডিজি-৭) অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনও সহজ হবে।

আরও পড়ুন

এদিকে, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর পার্ক নির্মাণ করছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার বলেন, প্রকল্পটি পূর্ববর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদন পেতে প্রথম দিকে জটিলতার মুখে পড়েছিল।

তবে বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল হওয়া ২৭টি সৌর প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি পুনরায় চালু করেছে। একইসঙ্গে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ট্যারিফ ৭ দশমিক ৮০ মার্কিন সেন্ট থেকে গড়ে ২ দশমিক ৫ সেন্ট কমানো হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকার বড় ধরনের কর প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে শূন্য শুল্ক আরোপ উল্লেখযোগ্য। এ উদ্যোগ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়তা করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি, বিশেষ করে লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে কর সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের বিল ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধকারীদের জন্য ৫ শতাংশ কর রেয়াতও রাখা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার। কেউ কেউ বলছেন, বিদ্যুতের বার্ষিক প্রায় ৭ শতাংশ চাহিদা বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য অংশ সবুজ জ্বালানি থেকে পূরণের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। বর্তমানে দেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।

কর্মকর্তারা জানান, বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী মাসে (আগস্ট) এ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে আরও ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু হতে পারে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার গত ১২ এপ্রিল ‘গাইডলাইনস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিনিউএবল এনার্জি প্রজেক্টস ইউজিং ল্যান্ড ওনড বাই গভর্নমেন্ট এজেন্সিস আন্ডার দ্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডালিটি, ২০২৬’ জারি করেছে।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ফেনীর সোনাগাজীতে ৪১২ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে একটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য মে মাসে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশীয় উৎপাদন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক ও রাজস্ব প্রণোদনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিডার কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটি থেকে যথাক্রমে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট এবং ২২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চীনের সিএমইসি গ্রুপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বি অ্যান্ড এফ কোম্পানিকে।

তারা জানান, নতুন হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সমতাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় (এলসিওই) গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় কম। ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় আরও কমবে বলেও তারা আশা করছেন।

বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক। তবে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকারকে ক্রমবর্ধমানভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান ১ হাজার ৫১৪ দশমিক ৬৬ মেগাওয়াট বা ৮৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জলবিদ্যুৎ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট এবং বায়ুবিদ্যুৎ থেকে ৬২ মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত গ্রিড বহির্ভূত এলাকায় ৬০ লাখের বেশি সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) স্থাপন করা হয়েছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, ফলে প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৮ মাসে বিদেশ গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার
বিশ্বের ১০৯ দেশে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা পাড়ি জমিয়েছেন। একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৮ মাসে বিদেশ গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী, আসছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার
এলপিজির বাজার তদারকিতে যেসব নির্দেশনা দিল সরকার
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
এলপিজির বাজার তদারকিতে যেসব নির্দেশনা দিল সরকার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। 
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে ১২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।
১২ দিনে এলো ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ
ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।  বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি ওমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক এবং পরে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর
ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ‘বড় সরবরাহ’
সৌরবিদ্যুতে বড় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা, মিলবে পরিবেশগত সুফলও
চিংড়ির হ্যাচারিতে সৌর প্যানেল, উৎপাদন হবে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ
একনেকে উঠছে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব