ইডিএফ ঋণ পরিশোধযোগ্য থাকবে ২৭০ দিন পর্যন্ত

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৬:১৭ পিএম


ইডিএফ ঋণ পরিশোধযোগ্য থাকবে ২৭০ দিন পর্যন্ত
ছবি: সংগৃহীত

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) পরিচালনায় আরও সমন্বিত ও হালনাগাদ কাঠামো আনতে নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জারি করা এ সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ইডিএফ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

এ সার্কুলারের মাধ্যমে ইডিএফ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ের নির্দেশনা একত্র করা হয়েছে এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রাভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার নীতিমালা হালনাগাদ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে ৬ মাসের বেঞ্চমার্ক সুদের হারের সঙ্গে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ যোগ করে পুনঃঅর্থায়ন দেবে। অন্যদিকে, এডি ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ৬ মাসের বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করতে পারবে।

আরও পড়ুন

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ইডিএফ ঋণ ১৮০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এ সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ইডিএফ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্তও আরও কঠোর করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসন করতে ব্যর্থ রপ্তানিকারক কিংবা যাদের ইডিএফ দায় ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে, তারা নতুন করে ইডিএফ সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। তবে, বকেয়া রপ্তানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনলে অথবা ডিসকাউন্ট কমিটির অনুমোদন পেলে তারা পুনরায় এ সুবিধা নিতে পারবেন।

মাস্টার সার্কুলারে ব্যাক-টু-ব্যাক লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান খাতভিত্তিক অর্থায়নের সীমা বহাল রাখা হয়েছে। খাতভেদে সর্বোচ্চ অর্থায়নের সীমা ২ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। একইভাবে, বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রেও আগের অর্থায়ন সীমা বহাল রাখা হয়েছে, যা খাতভেদে ১০ লাখ থেকে ২ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে নির্ধারিত।

এছাড়া, খাত নির্বিশেষে যোগ্য বাল্ক আমদানির জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলারের ইডিএফ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব রপ্তানিকারক বাল্ক আমদানি এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি উভয় ব্যবস্থায় আমদানি করেন, তারা কেবল একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের জন্য নির্ধারিত অর্থায়ন সীমা ব্যবহার করতে পারবেন।

নতুন মাস্টার সার্কুলারে ইডিএফ আবেদন দাখিল, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া এবং পরিচালন-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ী মহল এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বিভিন্ন সময়ে জারি করা বিচ্ছিন্ন নির্দেশনাগুলোকে একটি সমন্বিত মাস্টার সার্কুলারের আওতায় আনার ফলে ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের জন্য ইডিএফ-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ ও বাস্তবায়ন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission