ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ব্রুসেলোসিসে কমছে গাভীর দুধ, বছরে আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি: বাকৃবির গবেষণা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে ব্রুসেলোসিস একটি নীরব কিন্তু বড় অর্থনৈতিক হুমকি হয়ে উঠেছে। এ রোগে আক্রান্ত দুগ্ধবতী গাভীর দৈনিক গড়ে প্রায় এক লিটার দুধ উৎপাদন কমে যায়। প্রায় ২ হাজার ৭০০ গাভীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ কারণে খামারিরা প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক দুই বছর ধরে পরচালিত গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন।

সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজ-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক দল ইউএনবিকে জানান, খামারিরা সাধারণত গাভীর গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত সংক্রমণেও গাভীপ্রতি দৈনিক গড়ে প্রায় আধা লিটার এবং সক্রিয় সংক্রমণে প্রায় এক লিটার বা তারও বেশি দুধ উৎপাদন কমে যায়। ফলে খামারিরা না বুঝেই প্রতিদিন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গবেষকরা পরামর্শ দেন, খামারে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, গাভী গরম না হওয়া বা বারবার প্রজননে ব্যর্থতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান। গবেষক দলে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক ডা. মো. শফিউল আলম, মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম লিজান, বিশ্ব জ্যোতি অধিকারী, শান্তা ইসলাম, আর এস মাহমুদ হাসান এবং মিল্কভিটার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান।

অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বলেন, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভী সুস্থ গাভীর তুলনায় দৈনিক গড়ে ১ দশমিক ০১ লিটার এবং সুপ্ত সংক্রমণে আক্রান্ত গাভী ০ দশমিক ৫৩ লিটার কম দুধ দেয়।

গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বড় বাণিজ্যিক খামারের ২ হাজার ৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক ল্যাব পরীক্ষার পাশাপাশি ‘বায়েসিয়ান মিক্সড-ইফেক্টস মাল্টিনোমিয়াল রিগ্রেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে গাভীগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

তিনি বলেন, সাধারণত ব্রুসেলোসিসকে শুধু ‘সুস্থ’ বা ‘আক্রান্ত’—এই দুইভাবে বিবেচনা করা হলেও এ গবেষণায় প্রথমবারের মতো সুপ্ত সংক্রমণকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও এ ধরনের গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং পরবর্তীতে রোগটি সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রোগ শনাক্তে ব্যবহৃত আধুনিক গাণিতিক বিশ্লেষণে বাকৃবির গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস।

গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় বাণিজ্যিক ডেইরি খামারগুলোতে শুধু ব্রুসেলোসিসের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে, যার বড় অংশই দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে হয়।

আরও পড়ুন

ক্ষতি কমানোর উপায় নিয়ে অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পরিকল্পিত গণটিকাদানকে সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতি হিসেবে পাওয়া গেছে। এতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তবে আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি সরকারি ভর্তুকি ছাড়া সাধারণ খামারিদের জন্য ব্যয়বহুল।

গবেষক দলের সদস্য ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউল আলম বলেন, ব্রুসেলোসিস মানুষের জন্যও একটি বিপজ্জনক জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে উচ্চ ঝুঁকির গাভী দ্রুত শনাক্তকরণ, নিয়মিত রোগ নজরদারি, প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বড় খামারের পাশাপাশি ছোট খামারগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসেসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের ভ্যাটসহ নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সোনা ও রুপার অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩১ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়। আরটিভি/এসআর
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করা হচ্ছে। ১০ বছরে এসব কূপ থেকে পাওয়া গ্যাসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
ডিএসসিসিকে ৩০০ ওয়েস্ট বিন দিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০টি ‘টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েস্ট বিন’ হস্তান্তর করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
ডিএসসিসিকে ৩০০ ওয়েস্ট বিন দিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
আরও পড়ুন
কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে ‘বিনা’র বিপ্লব
মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদ সচিব
তিন মাসে ১৯৩ কোটি টাকার মাংস বিদেশের রপ্তানি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন, যা বলছে গবেষণা