ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

নাগালের বাইরে ডিম-মুরগির দাম, চড়া মাছ ও সবজির বাজার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। নাগালের বাইরে যাওয়ার উপক্রম ডিম-মুরগির দাম। সেইসঙ্গে আগের মতোই চড়া মাছ ও সবজির বাজার। সাপ্তাহিক বাজার করতে গিয়ে নাভিশ্বাস ক্রেতা সাধারণের।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে চোখে পড়েছে এমনই চিত্র। মাত্রাতিরিক্ত দাম শুনে বিক্রেতাদের সঙ্গে ঝাঁঝালো তর্কেও জড়াতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকে। বাজার মনিটরিংয়ের জোর দাবি জানাচ্ছেন প্রায় সব ক্রেতা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের ডজন উঠে গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

আরও পড়ুন

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনসুর আহমেদ বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় ব্রয়লার এবং ৩৩০ টাকায় সোনালি মুরগি বিক্রি করছি। বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দামে তেমন ওঠানামা নেই।

কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে মাছের দাম। প্রতি কেজি চাষের জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। আর মানভেদে চিংড়ির কেজি এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা। এছাড়া, ভেটকির কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেলের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম মাছের কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কইয়ের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কইয়ের কেজি ৩০০ টাকা, পোয়ার কেজি ২৬০ টাকা এবং শোলের কেজি ৭০০ টাকা।

সেইসঙ্গে আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর টাউনহলের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আজকে মাছের দাম আগের মতোই। কিছু মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হচ্ছে। সেগুলোর দাম সব সময় বেশি। তবে পুকুরে চাষের মাছের দামও দিন দিন বাড়ছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, এ জন্য বিক্রিও বেশি দামে করতে হয়। মাছের দাম বাড়ার কারণে আমাদের পুঁজিও বেশি লাগতেছে।

আরও পড়ুন

এদিকে সবজির দাম কিছুটা কমার আভাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত সবজির বাজার ক্রেতা সাধারণের নাগালের বাইরেই বলা চলে। এখনো ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা, বেগুন, টমেটো। মরিচের কেজি এখনো ৩০০ টাকার ওপরে। বাদবাকি বেশির ভাগ সবজির কেজিই ৮০ টাকার আশেপাশে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কথা হয় বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লে তার প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের উপরে সরাসরি পড়ে। আমরা তো দেশি মুরগি বা পাকিস্তানি সোনালি মুরগি কিনে খেতে পারবো না। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়া আমাদের ভরসা। সেখানে দাম বাড়লে পকেটে টান পড়ে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসেসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের ভ্যাটসহ নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সোনা ও রুপার অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩১ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়। আরটিভি/এসআর
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করা হচ্ছে। ১০ বছরে এসব কূপ থেকে পাওয়া গ্যাসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
আরও পড়ুন
আদা, রসুন ও লেবুর দামে বড় লাফ, চাল-ময়দা কিনতেও নাভিশ্বাস ক্রেতাদের
৮০ টাকার নিচে মিলছে পেঁপে, চড়া সবজির বাজার
ঝিরিপথ পেরিয়ে চবির শহীদ মিনারে পাহাড়ি শাকসবজির বাজার
সবজির বাজারে আগুন, ঘি ঢালছে জ্বালানি তেলের দাম