
চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে হঠাৎ করে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। একই সঙ্গে বেড়েছে চিনির দামও। রাজ্যটিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম উঠেছে ৬৫ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৪ টাকা)।
এর আগে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ রুপি। এমনকি একসময় এই পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০ রুপিও ছিল। হঠাৎ করে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে বাংলাদেশের বাজারে দেশি পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে। সে হিসাবে বাংলাদেশের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।
পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম বেড়েছে চিনিরও। যে চিনির দাম এক মাস আগেও ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ রুপি। সেই চিনির দাম এখন প্রতি কেজি ৭০ রুপিতে পৌঁছে গেছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজ্যজুড়ে চিনি ও পেঁয়াজ নিয়ে কালোবাজারি অভিযোগ সামনে এসেছে। এই কালোবাজারি রুখতে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি) এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে।
মূলত রাজ্যে মূল্যবৃদ্ধি আটকানো ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কালোবাজারি না করতে পারে, ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম না নেয়, তা পর্যবেক্ষণ করতেই রাজ্যের বাজারে অভিযান চালায় প্রশাসন।
প্রসাশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম যাতে আর বেশি না বাড়ে সেই কারণেই অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোটামুটি ঠিক আছে। দাম বাড়ছে আবার কমেও যাচ্ছে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
এদিকে চিনির এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উঠে আসছে দুটি কারণ। চিনি প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ইসমা’র দাবি দেশটিতে চিনির অভাব নেই। খারাপ আবহাওয়ার জন্য আখচাষে ক্ষতি, উৎপাদন কমে যাওয়া, জোগানের তুলনায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির কারণ মূলত বেআইনি মজুতদারি।
অন্য আরেকটি পক্ষ বলছে, পেছনে রয়েছে দেশজুড়ে তোলপাড় তোলা ইথানল-বিতর্ক। ইরান ও রাশিয়ার যুদ্ধের আবহে পেট্রলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই ইথানল তৈরিতে লাগে চিনি- যা বাড়িয়ে দিয়েছে চিনি দাম।
তবে কারণ যাই হোক, অসুবিধায় পড়েছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ। চিনি ছাড়া গৃহস্থের ঘরে সকালের চা বা কফি যেমন গরম হবে না তেমনি উৎসব, পার্বণ, মিষ্টির দোকানেও চিনি ছাড়া কার্যত অচল। ফলে বাজারে গিয়ে চিনি কিনতে গিয়ে কার্যত হাতে ছ্যাকা খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
আরটিভি/এমএম



